আসল সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন “এখন কিনুন, পরে টাকা দিন” অভ্যাসে পরিণত হয়। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস মানুষকে ঋণের ফাঁদে ফেলে দেয়। মাসের শেষে বড় বিল, বাড়তে থাকা সুদ এবং ক্রমাগত EMI-র চাপ পুরো বাজেট নষ্ট করে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞ Taresh Bhatia-র মতে, ক্রেডিট কার্ড নিজে খারাপ নয়, বরং ভুলভাবে ব্যবহার করাই সমস্যার কারণ। তাঁর মতে, কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চললে ক্রেডিট কার্ড আপনার আর্থিক জীবনকে আরও সহজ করে তুলতে পারে।
সমস্যা কার্ড নয়, ব্যবহার করার অভ্যাস
তারেশ ভাটিয়ার মতে, অনেকেই ভুল করে ক্রেডিট কার্ডকে অতিরিক্ত টাকা মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এটি এক ধরনের ঋণ, যা সময়মতো শোধ না করলে বড় অঙ্কের সুদ গুনতে হতে পারে।
সঠিকভাবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে আপনার Credit History শক্তিশালী হয় এবং CIBIL Score উন্নত হয়, ফলে ভবিষ্যতে সহজে ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞের প্রথম পরামর্শ, আপনার কার্ডের মোট লিমিটের ৩০ শতাংশের বেশি খরচ না করাই ভালো।
ধরা যাক, আপনার কার্ডের লিমিট ১ লক্ষ টাকা। সে ক্ষেত্রে চেষ্টা করুন মাসে ৩০ হাজার টাকার বেশি খরচ না করতে।
এতে CIBIL Score ভালো থাকে এবং ঋণের চাপও কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পুরো লিমিট ব্যবহার করা ব্যাঙ্কের কাছে “রিস্ক সিগন্যাল” হিসেবে ধরা হয়।
আজকাল মোবাইল ফোন থেকে টিভি— সবকিছুই EMI-তে কেনা খুব সাধারণ বিষয় হয়ে গেছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস ভবিষ্যতের আয় আগেভাগে খরচ করার মতো।
তারেশ ভাটিয়ার পরামর্শ, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া EMI এড়িয়ে চলাই ভালো। শুধুমাত্র লাইফস্টাইল বা দেখনদারির খরচের জন্য EMI নেওয়া দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।
তাঁর মতে, কোনও জিনিস কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকা যদি এখন না থাকে, তাহলে কেনাকাটা কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
অনেক সময় মাসের শেষে মানুষ বুঝতেই পারেন না, টাকা কোথায় খরচ হয়ে গেল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খরচকে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করে ট্র্যাক করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ— যেমন:
খাবার শপিং ভ্রমণ বিনোদন অনলাইন সাবস্ক্রিপশন
এতে বোঝা যায় কোন খরচ প্রয়োজনীয় ছিল আর কোথায় অযথা টাকা নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে অনেক মোবাইল অ্যাপ এই কাজ সহজ করে দিয়েছে।
ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলি সাধারণত Minimum Due পরিশোধের বিকল্প দেয়। অনেকেই ভাবেন, শুধু এটুকু দিলেই চলবে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটিই সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিদ্ধান্ত হতে পারে।
তারেশ ভাটিয়া বলেন, সবসময় পুরো বিল পরিশোধ করার চেষ্টা করা উচিত। কারণ Minimum Due জমা দিলে বাকি টাকার উপর ভারী সুদ ধার্য হয়।
অনেক ক্ষেত্রে এই সুদের হার বছরে ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।
ডিউ ডেট মিস না করতে এবং Late Fee এড়াতে Auto-Pay Feature ব্যবহার করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই দামি গ্যাজেট, ব্র্যান্ডেড জিনিস এবং বিলাসবহুল খরচের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইফস্টাইল আপগ্রেড সবসময় সঞ্চয় এবং বিনিয়োগের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, ক্রেডিট কার্ডের ঋণের উপর নয়।
তাঁর মতে, ঋণের উপর দাঁড়ানো লাইফস্টাইল দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না।
তারেশ ভাটিয়া একটি খুব সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের কথা বলেছেন—
“এই মাসে যে টাকা খরচ করছেন, তা যদি আগামী মাসে সহজে শোধ করতে না পারেন, তাহলে সেই জিনিস কেনার আগে দু’বার ভাবুন।”
অর্থাৎ, ক্রেডিট কার্ড সুবিধার জন্য হওয়া উচিত, চিন্তার কারণ হওয়ার জন্য নয়।
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ক্রেডিট কার্ডের অনেক সুবিধাও রয়েছে, যেমন—
Cashback Airport Lounge Access Reward Points Online Offers ভালো Credit History
তবে এই সুবিধাগুলি তখনই কাজে লাগে, যখন সময়মতো বিল পরিশোধ করা হয়।
ক্রেডিট কার্ড সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি আপনার আর্থিক পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কিন্তু অসাবধানতা এটিকে বড় ঋণের বোঝায় পরিণত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসল স্মার্টনেস বেশি খরচে নয়, বরং খরচ নিয়ন্ত্রণে। তাই পরের বার কার্ড ব্যবহার করার আগে শুধু অফার বা EMI নয়, এটাও ভাবুন— সেই টাকা শোধ করার ক্ষমতা আপনার আছে কি না।