Last Updated:
Delhi News: রেখা গুপ্ত আরও জানান, আগামী ছয় মাস কোনও দিল্লি সরকারি দফতর নতুন গাড়ি কিনতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘‘দিল্লির নতুন ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) নীতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই তা ঘোষণা করা হবে।
নয়াদিল্লি: মধ্য এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার জ্বালানি সাশ্রয়মূলক একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে দিল্লি সরকার। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তাহে দু’দিন বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার অনুমতি এবং আগামী এক বছরের জন্য মন্ত্রী ও সরকারি আধিকারিকদের বিদেশ সফরে বিধিনিষেধ। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ‘মেরা ভারত, মেরা যোগদান’ শীর্ষক একটি জনসচেতনতা প্রচারাভিযানের সূচনা করেন এদিন। কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্ব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নাগরিকদের জ্বালানি খরচ কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে রেখা গুপ্ত বলেন, “‘মেরা ভারত, মেরা যোগদান’ অভিযানের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চাই, আমাদের দিল্লির জন্য আমাদের সরকার এবং সাধারণ মানুষ কীভাবে অবদান রাখতে পারেন। আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় করা।” এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দিল্লি সরকার তাদের কর্মীদের সপ্তাহে দু’দিন বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দেবে বলে জানান রেখা। পাশাপাশি, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও একইভাবে সপ্তাহে দু’দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করার আবেদন জানান। তিনি বলেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে এটি পরামর্শমূলক হবে এবং এর বাস্তবায়ন শ্রম দফতর পর্যবেক্ষণ করবে।’’
সরকারি আধিকারিকদের মাসিক পেট্রোল ভাতা ২৫০ লিটার থেকে কমিয়ে ২০০ লিটার করা হয়েছে। যারা গণপরিবহন ব্যবহার করবেন, তাঁদের অতিরিক্ত পরিবহণ ভাতা দেওয়া হবে। ‘মেট্রো মানডে’ নামে একটি নতুন উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। এই নিয়মের আওতায় প্রতি সোমবার সমস্ত মন্ত্রী ও সরকারি আধিকারিকেরা মেট্রো ব্যবহার করবেন। দিল্লি সরকারের দফতরগুলির কাজের সময়ও পরিবর্তন করা হয়েছে—এখন সেগুলি চলবে সকাল ১০:৩০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। অন্যদিকে, দিল্লি পুরনিগমের অফিস চলবে সকাল ৮:৩০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
নাগরিকদের প্রতি সপ্তাহে একদিন ‘নো ভেহিকল ডে’ পালনেরও আহ্বান জানান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা৷ তাঁর পরামর্শ, এতে যানজট ও জ্বালানি খরচ কমানো সম্ভব হবে। দিল্লির সরকার আরও ঘোষণা করেছে, আগামী তিন মাস কোনও বড় সরকারি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে না। পাশাপাশি, দিল্লি ভ্রমণে আসা পর্যটকদের জন্য একটি বিশেষ ভ্রমণ পরিকল্পনা চালু করা হবে।
ভ্রমণ ও বিদ্যুৎ খরচ কমাতে এখন থেকে সরকারি বৈঠকের ৫০ শতাংশ অনলাইনে করা হবে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও সম্ভব হলে অনলাইন পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করা হবে।
রেখা গুপ্তা আরও জানান, আগামী ছয় মাস কোনও দিল্লি সরকারি দফতর নতুন গাড়ি কিনতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘‘দিল্লির নতুন ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) নীতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই তা ঘোষণা করা হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য দিল্লি সরকারের অফিসগুলিতে এসির তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা হবে। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় রোধে স্মার্ট সুইচও বসানো হবে।’’
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী নিজেও তাঁর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৬০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। রেখা গুপ্ত জানান, বর্তমানে তাঁর কনভয়ে মাত্র চারটি গাড়ি রয়েছে, যার মধ্যে দু’টি বৈদ্যুতিক যান।
