Last Updated:
অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে তেহরান তার জবাব দিতে প্রস্তুত। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “যে কোনও আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
ওয়াশিংটন: ফের হুমকি ট্রাম্পের। রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে পরোক্ষে হুমকি দিলেন! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, “এটা ছিল ঝড়ের আগের শান্ত মুহূর্ত!” পোস্টে একটি AI নির্মিত ছবিও শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি পরেছেন ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ লেখা একটি টুপি, ব্যাকড্রপে রয়েছে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ। তাঁর পাশে একজন নৌবাহিনীর অফিসার। চারপাশে উত্তাল সমুদ্র, বজ্রপাত এবং দূরে ইরানের জাহাজ দেখা যাচ্ছে।
সংঘর্ষবিরতি বজায় থাকলেও এখনও হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা কমার নাম নেই! একাধিক রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন ফের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। The New York Times-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বেজিং সফর শেষে দেশে ফিরে ইরানকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনাও তৈরি করছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা এবং বন্ধু দেশগুলি এমন একটি সমঝোতার চেষ্টা করছে, যাতে ইরান আবার স্ট্রেইট অফ হরমুজ খুলে দেয়। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ। একই সঙ্গে, এই সমাধানকে ট্রাম্প যেন কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারেন, সেই চেষ্টাও চলছে।
তবে চিন ছাড়ার পর এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। The New York Times-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেন, “আমি এটা দেখেছি, আর প্রথম লাইনটাই যদি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমি পুরোটা ফেলে দিই।”
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, গত মাসে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করার পর যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল, সেটি আবার শুরু করার সম্ভাবনা মাথায় রেখে পেন্টাগন বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth বলেছেন, “প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি আরও কঠোর করার পরিকল্পনা রয়েছে।” যদিও একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক ভাবনাচিন্তা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর উপর বড়সড় বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনা। আরও একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা হল, ইরানের ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে মাটির গভীরে লুকিয়ে রাখা পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করতে বিশেষ বাহিনীর সেনা মোতায়েন করা।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সামরিক পরিকল্পনাকে কার্যকর রাখার জন্য চলতি বছরের শুরুতেই কয়েকশো বিশেষ বাহিনীর সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এই ধরনের অভিযানে “বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি” থাকতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে তেহরান তার জবাব দিতে প্রস্তুত। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “যে কোনও আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
Kolkata,West Bengal
