Last Updated:
সারা জীবন ছুঁয়ে দেখেননি একটাও ডিম৷ ডিম দেখলেই তিনি পালাই পালাই করতেন৷ সিদ্ধ ডিমের গন্ধে তাঁর গা গুলিয়ে উঠত৷
কলকাতা: রাজ্যজুড়ে এখন ডিম ছোড়ার এক রীতি শুরু হয়েছে৷ প্রতিবাদ জানাতে আম জনতা এই ‘হাতিয়ার’ হাতে তুলে নিয়েছেন৷ তৃণমূল নেতাদের প্রতি তাঁদের ক্ষোভ তুলে ধরতে আপাতত ডিমেই ভরসা রাখছেন সাধারণ মানুষ৷ এই ডিম ছোড়ার রীতি বহু পুরনো৷ গুরুতর হিংসার পথ না হেঁটে, ডিমের দুর্গন্ধ, আঠালো ভাব এবং ভেঙে পড়ার দৃশ্যটি টার্গেট করা ব্যক্তির জনসমক্ষে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এর মাধ্যমে মূলত শারীরিক আঘাত ছাড়াই প্রতিপক্ষের সম্মানহানি করা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবাদ জানাতে ডিম ছোঁড়া মূলত একটি প্রতীকী এবং ঐতিহ্যবাহী মাধ্যম।
ইতিহাসবিদদের মতে প্রতিবাদে খাবার ছুঁড়ে মারার প্রথা শুরু হয় প্রাচীন রোমে৷ সেই সময় কোনও অভিনেতা অভিনয় পছন্দ না হলে দর্শকরা থিয়েটার হলে ডিম ছুঁড়ে মারত৷ এরপর তা হল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্য করে৷ প্রাচীন গ্রিস এবং রোমে জনসমক্ষে অপমান প্রদর্শনের নানা রীতি ছিল। যদিও ডিম নিক্ষেপের সরাসরি প্রমাণ কম, কিন্তু বাজারে, উৎসবে বা রাজনৈতিক সমাবেশে পচা ফল, সবজি বা খাদ্যদ্রব্য নিক্ষেপের উল্লেখ বিভিন্ন সাহিত্য ও ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া যায়।
ফলে বিশ্বজুড়ে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ডিম ছোঁড়ার এই সংস্কৃতি দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত রয়েছে। ভারতে ১৯৭০-এর দশক থেকে এই ধরণের রাজনৈতিক ক্ষোভ প্রকাশের নজির দেখা যায়।
অন্যদিকে ডিম থেকে ভয় পাওয়াকে বলে ওভোফোবিয়া (Ovo phobia)৷ যাঁরা এই রোগে ভোগেন তাঁরা কোনও সময় মুখে ডিম তুলে পারেন না৷ ফলে ডিম সেদ্ধ, পোচ, বা ওমলেট থেকে শতহাত দূরে থাকতে হয় তাঁদের৷ ফলে ডিম ছোড়া তো এরা ভাবতেই পারেন না!

ডিমে ভয় পেতেন আলফ্রেড হিচকক
এমনই এক রোগে ভুগতেন বিশ্ববিখ্যাত পরিচালক৷ তিনি আলফ্রেড হিচকক৷ ডিমের প্রতি এক তীব্র ও অযৌক্তিক ভয় ছিল তাঁর। তিনি বহুল প্রচলিত একটি উক্তি করেছিলেন যে, রক্তের চেয়েও ডিম দেখে তিনি বেশি ভয় পান৷ এর প্রধান কারণ ছিল ডিমের অক্ষত সাদা আবরণ এবং ভিতরে গড়িয়ে পড়া তরল হলুদ কুসুম তাকে গভীরভাবে বিচলিত করত। হিচকক ১৯৬৩ সালে ইতালীয় সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর ফোবিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেন৷
তিনি দাবি করতেন যে, ডিমের কুসুম ফেটে হলুদ তরল ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্যটি তার কাছে লাল রক্তের চেয়েও অনেক বেশি জঘন্য ছিল। তিনি জীবনে কখনও ডিম খাননি বলেই জানা গিয়েছে৷ সেদ্ধ ডিমের শুধু দেখা বা গন্ধ তিনি সহ্য করতে পারতেন না৷ প্রাকৃতিক রূপে ডিমের প্রতি তীব্র বিতৃষ্ণা থাকা সত্ত্বেও, হিচকক ডিম খেতে পারতেন যদি তা সুফ্লে বা কিশের মতো খাবারের সঙ্গে ভালভাবে মেশানো হতো।
যিনি বহু হরর ফিল্ম তৈরি করে দর্শকদের ভয় দেখিয়েছিলেন, তিনি নিজেই ভয় পেতেন ডিমে!
Kolkata,West Bengal
