Last Updated:
Fishing Competition: ফুটবল বা ক্রিকেটের চেনা উন্মাদনা নয়, এবার মেদিনীপুরের বেলদায় নজর কাড়ল বঁড়শি দিয়ে মাছ ধরার এক গ্রামীণ ‘বিশ্বকাপ’। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মৎস্যশিকারিদের এই রুদ্ধশ্বাস লড়াই গ্রাম বাংলায় ফিরিয়ে এনেছে হারিয়ে যাওয়া উৎসবের আমেজ।
বেলদা, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: বিশ্বকাপ বললেই সাধারণত আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফুটবল কিংবা ক্রিকেটের টানটান উত্তেজনার ছবি। কিন্তু এই চেনা পরিচিত উন্মাদনার বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের এক গ্রামীণ প্রতিযোগিতা এবার নজর কেড়েছে সকলের। একদিকে যখন টিভির পর্দায় আধুনিক খেলার আনন্দে মেতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ, ঠিক তখনই পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায় বঁড়শি দিয়ে মাছ ধরার এক অভিনব প্রতিযোগিতায় মজেছেন আপামর জনতা। খড়গপুর মহকুমার অন্তর্গত বেলদা থানার শুসিন্দা এলাকায় আয়োজিত এই গ্রামীণ আসর ঘিরে উৎসবের চেহারা নিয়েছে গোটা গ্রাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর বিভিন্ন সময়ে এই এলাকায় এমন অভিনব মাছ ধরা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তবে সাধারণ অন্যান্য প্রতিযোগিতার মত এটি বিনামূল্যে নয়। রীতিমতো এন্ট্রি ফি দিয়ে প্রতিযোগীদের এই আসরে অংশ নিতে হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের প্রতিযোগিতায় টিকিটের মূল্য ধার্য করা হয়েছে তিন হাজার টাকা। সকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় এই আসর। পুকুরের চারপাশ পরিষ্কার করে প্রতিযোগীদের বসার জন্য মোট ২৯টি নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ, একই সঙ্গে মোট ২৯ জন প্রতিযোগী এই মাছ ধরার সুযোগ পান।
মাছ ধরার কৌশল ও নিয়মকানুনও বেশ চমকপ্রদ। প্রতিযোগীরা প্রত্যেকেই নিজেদের সঙ্গে গামলায় করে মাছের নানা রকম খাবার সাজিয়ে আনেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এক একজন প্রতিযোগী একসঙ্গে সর্বোচ্চ তিনটি বঁড়শি ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিযোগিতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল, ছিপে ওঠা সমস্ত মাছ প্রতিযোগীরা নিজেরাই নির্দ্বিধায় বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন। সারাদিন ধরে ধৈর্য ধরে বসার পর এক একজন প্রতিযোগী গড়ে প্রায় ৫ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত মাছ ধরে থাকেন।
গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুধু যে স্থানীয় এলাকার মানুষজন ভিড় জমান তা নয়। ঘাটাল কিংবা খাস কলকাতার মতো দূর-দূরান্ত থেকে বহু মৎস্যশিকারী উৎসাহের সঙ্গে ছুটে আসেন বেলদার এই গ্রামে। আধুনিকতার ভিড়ে যখন এই ধরনের গ্রামীণ খেলাধুলো প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন এমন এক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে বেশ প্রশংসনীয়। আয়োজকদের এই প্রয়াস সত্যিই খুব ভাল। বাংলার প্রাচীন এই সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য তাঁদের সাধুবাদ জানিয়েছেন উপস্থিত দর্শকরা।
Paschim Medinipur,West Bengal
Jul 20, 2026 11:26 AM IST