ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দাবি, গুরুতর আহত হওয়ার পরও হামলাকারীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন স্মিত মচ্ছর। এরপর ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি। সেই সুযোগে যাত্রী ও অন্যান্য বিমানকর্মীরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত হামলাকারীকে কাবু করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামলার সময় বিমানটি দ্রুত নীচের দিকে নামতে শুরু করেছিল। সেই পরিস্থিতিতে স্মিত মচ্ছর হামলাকারীকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান বলে জানা গিয়েছে।
এরপর যাত্রীরা দ্রুত ককপিটের দিকে ছুটে যান এবং সহ-পাইলটকে কাবু করতে সাহায্য করেন। নেতানিয়াহুর দাবি, পরে আরও এক বিমানকর্মী ককপিটে ঢুকে বিমানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা বিমানটি দু’মিনিটেরও কম সময়ে ১৭ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা হারায়। পরে বিমানটির গতিপথ ঘুরিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য বিমানকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রী ও বিমানকর্মীর প্রত্যেকেরই হিসাব নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন নেতানিয়াহু। তাঁর সাহসিকতার কারণেই ‘মাঝ-আকাশে ভয়াবহ দুর্ঘটনা’ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।
এক্স-এ নেতানিয়াহু লেখেন, “অসাধারণ সাহসিকতার জন্য ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে আমার স্যালুট। ছুরিকাহত ও গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি লড়াই করেছেন, হামলাকারীকে প্রতিহত করেছেন, ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছেন এবং যাত্রী ও বিমানকর্মীদের হামলাকারীকে কাবু করার সুযোগ করে দিয়েছেন।”
নেতানিয়াহু আরও বলেন, স্মিত মচ্ছর ১৭৪ জনের জীবন বাঁচিয়েছেন। পরে CNN-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, পাইলট ‘9/11-এর মতো বিপর্যয়’ ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তাঁর দাবি, পাইলটের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। তবুও ককপিটের দরজা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি ‘নায়কের মতো’ কাজ করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, “পাইলটের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল; আমার মনে হয় এখনও খুবই খারাপ। কিন্তু তাঁর বুদ্ধি ছিল—অসাধারণভাবে—ককপিটের দরজা খুলে দেওয়া। এক অর্থে তিনি একজন নায়ক।”**
ইজরায়েলের বিদেশ মন্ত্রকও স্মিত মচ্ছরকে নায়ক বলে অভিহিত করেছে। মন্ত্রকের দাবি, গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন এবং যাত্রী ও বিমানকর্মীদের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ করে দেন।
এক্স-এ ইজরায়েলের বিদেশ মন্ত্রক লেখে, “একসঙ্গে তাঁদের অসাধারণ সাহস ১৭৪টি জীবন বাঁচিয়েছে। ভারতীয়, ইজরায়েলি, আমিরাতি—বিভিন্ন দেশের নাগরিক। সাহসিকতার এক অসাধারণ নজির। আমরা ক্যাপ্টেন মচ্ছরের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করি।”
জরুরি অবতরণের পর স্মিত মচ্ছরকে সৌদি আরবের তাবুকের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নিয়মিত নজর রাখছে রিয়াধের ভারতীয় দূতাবাস এবং জেদ্দার ভারতীয় কনস্যুলেট।
ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, “উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে তিনি ভর্তি রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
জানা গিয়েছে, স্মিত মচ্ছরের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মেডিক্যাল আপডেটের অপেক্ষা রয়েছে।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, “আমরা আশা করি তিনি দ্রুত তাঁর আঘাত থেকে সুস্থ হয়ে উঠবেন। আমরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং তাঁদের আশ্বস্ত করছি যে, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হবে এবং তাঁর সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ধরনের সহায়তা করা হবে।”
ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। ফ্লাইদুবাই বিমানের ওই ঘটনার পর স্মিত মচ্ছরকে ‘হিরো’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এক্স-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর একজন HERO।” তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে ভয়াবহ বিপদের মুখেও এবং গুরুতরভাবে আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি অসীম সাহস ও অন্যদের জীবন রক্ষার জন্য অটুট সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন।”
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানটি মাঝ-আকাশে একটি গুরুতর ঘটনার মুখে পড়ে। বিমানটির উচ্চতা আচমকাই দ্রুত কমে যায় বলে জানা গিয়েছে। এরপর সেটিকে সৌদি আরবের তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, বিমানের এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং বিমানটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। পরে যাত্রীরা হস্তক্ষেপ করে অভিযুক্ত হামলাকারীকে কাবু করেন।
ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানে মাঝ-আকাশে একটি ঘটনা ঘটেছিল এবং বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করেছে। বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী ও বিমানকর্মী নিরাপদে রয়েছেন এবং তাঁদের হিসাব নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিমান সংস্থা। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের তথ্য উঠে না আসা পর্যন্ত আপাতত স্থগিত ফ্লাইদুবাই বিমান চলাচল৷