Last Updated:
Indian Railways: সমবেতদের উদ্দেশে ভাষণকালে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার একটি সুরক্ষামূলক, স্মার্ট এবং আরও স্থিতিশীল রেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমূহকে গ্রহণ করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে রেল পরিবহনের ভবিষ্যত প্রয়োজনীয়তা মেটাতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং পরিবেশগত দায়িত্ব একসাথে চলা উচিত। এই আয়োজনে রেলওয়ের সুরক্ষা, দক্ষতা ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রতি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে।
নয়াদিল্লি: উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে রেল পরিকাঠামো ব্যবস্থাপনায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ বিষয়ক একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং আইআইটি গুয়াহাটির অধ্যাপক অশ্বিনী কে. নন্দা একটি অত্যন্ত তথ্যবহুল ও অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ উপস্থাপনা পেশ করেন; তিনি নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি এই কার্যসূচিতে অংশগ্রহণ করে। এই সেশনে রেলওয়ের সুরক্ষা, নির্ভরযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত সেন্সিং প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের রূপান্তরমূলক ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত এই কার্যসূচিতে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী চেতন কুমার শ্রীবাস্তব, অ্যাডিশনাল জেনারেল ম্যানেজার, বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের আধিকারিকরা এবং মুখ্য কার্যালয় ও বিভিন্ন ডিভিশনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকেরা অংশগ্রহণ করেন।
এই প্রেজেন্টেশনের সময় অধ্যাপক নন্দা “মাল্টিপল সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল টুইন ব্যবহার করে স্থায়ী রেলপথ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় ও একক ব্যবস্থা” শীর্ষক একটি উন্নত ধারণা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
প্রস্তাবিত সিস্টেমটি ইন্টেলিজেন্ট সেন্সর নেটওয়ার্ক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-আধারিত পূর্বাভাসমূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ট্র্যাকের অবস্থার নিরবচ্ছিন্ন মূল্যায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা প্রোঅ্যাক্টিভ রক্ষণাবেক্ষণ ও তথ্য-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ করে দেয়। এই ধরনের প্রযুক্তির সম্পদ ব্যবস্থাপনার উল্লেখযোগ্য উন্নতি, রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, পরিচালনগত নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং রেলওয়ের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার সক্ষমতা রয়েছে।
কনফারেন্স চলাকালীন, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে। এই চলচ্চিত্রে সমগ্র জোন জুড়ে গৃহীত বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ -যেমন ব্যাপক হারে রেলওয়ে বৈদ্যুতিকরণ, সৌরশক্তির প্রসার, শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, জল ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য হ্রাসকরণ, বৃক্ষরোপণ কার্যসূচি এবং বিভিন্ন ডিভিশন, কারখানা ও কার্যালয়ে পরিবেশবান্ধব কর্মপদ্ধতি অনুসরণ ইত্যাদি তুলে ধরা হয়। এই পদক্ষেপগুলো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।
