Meritking Giriş: Meritking Spor BahisleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Güvenilir Mi, Meritking Bonus Ve KampanyalarMarsbahis Giriş: Marsbahis Giriş Adresi, Marsbahis Mobilden Giriş 2026Mavibet Giriş: Mavibet Spor Bahisleri, Mavibet Casino Ve Slot OyunlarıMeritking Giriş: Meritking Spor BahisleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Giriş Adresi, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Güvenilir Mi, Marsbahis Spor BahisleriMavibet Giriş: Mavibet Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMeritking Giriş: Meritking Spor BahisleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Mobilden Giriş 2026Meritking Giriş: Meritking Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Spor BahisleriMavibet Giriş: Mavibet Giriş Adresi, Mavibet Güvenilir MiMeritking Giriş: Meritking Giriş Adresi, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Güvenilir Mi, Marsbahis Spor BahisleriMavibet Giriş: Mavibet Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Canlı Destek Ve İletişimMarsbahis Giriş: Marsbahis Casino Ve Slot OyunlarıMavibet Giriş: Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Giriş AdresiMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir MiMeritking Giriş: Meritking Canlı Destek Ve İletişimMarsbahis Giriş: Marsbahis Casino Ve Slot Oyunları, Marsbahis Spor BahisleriMavibet Giriş: Mavibet Bonus Ve Kampanyalar, Mavibet Giriş AdresiMeritking Giriş: Meritking Güvenilir Mi, Meritking Bonus Ve KampanyalarMarsbahis Giriş: Marsbahis Giriş Adresi, Marsbahis Mobilden Giriş 2026Mavibet Giriş: Mavibet Spor BahisleriMeritking Giriş: Meritking Giriş Adresi, Meritking Mobilden Giriş 2026Marsbahis Giriş: Marsbahis Güvenilir Mi, Marsbahis Bonus Ve KampanyalarMavibet Giriş: Mavibet Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMeritking Giriş: Meritking Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Spor Bahisleri, Marsbahis Casino Ve Slot OyunlarıMavibet Giriş: Mavibet Giriş Adresi, Mavibet Mobilden Giriş 2026Meritking Giriş: Meritking Canlı Destek Ve İletişimMarsbahis Giriş: Marsbahis Casino Ve Slot OyunlarıMavibet Giriş: Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Giriş AdresiMarsbahis Giriş: Marsbahis Güvenilir MiMavibet Giriş: Mavibet Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMeritking Giriş: Meritking Güvenilir Mi, Meritking Giriş AdresiMarsbahis Giriş: Marsbahis Giriş Adresi, Marsbahis Bonus Ve KampanyalarMavibet Giriş: Mavibet Spor Bahisleri, Mavibet Casino Ve Slot OyunlarıMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Güvenilir Mi, Meritking Bonus Ve KampanyalarMarsbahis Giriş: Marsbahis Giriş Adresi, Marsbahis Mobilden Giriş 2026Mavibet Giriş: Mavibet Spor BahislerikalitebetgrandpashabetholiganbetjojobetholiganbetholiganbetextrabetMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarAntalya Escort BayanAntalya EscortCasibomJojobetMeritkingroofing contractorCasibomCasibom girişCasibomJojobetJojobet girişJojobetMeritkingMeritking girişMeritkingjojobetromabetromabet girişromabetromabet girişMeritkingMeritking girişMeritkingHoliganbetHoliganbet girişHoliganbetJojobetJojobet girişJojobetjojobetjojobet girişpusulabetpusulabet girişholiganbetholiganbet girişmavibetmavibet girişholiganbetholiganbet girişmarsbahisjojobetmeritkingHoliganbetHoliganbet girişHoliganbetMeritkingMeritking girişMeritkingJojobetJojobet girişJojobetmeritkingmeritking girişRomabetRomabet girişRomabet


বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভগামী একটি নিয়মিত বিমানযাত্রা মাঝ আকাশে ‘জরুরি পরিস্থিতি’তে পরিণত হয়, যখন ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের ককপিটের ভিতরে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার, একজন ভারতীয় পাইলট। ইজরায়েলি আধিকারিক ও যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর কো-পাইলট তাঁকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং তিনি গুরুতর আহত হন। তবে হামলার পরও মচ্ছার পাল্টা লড়াই করেন এবং লক থাকা ককপিটের দরজা খুলে দেন—যার ফলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করতে সাহায্য করতে পারেন।

বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি শেষ পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে। স্মিত মচ্ছারকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বৃহস্পতিবার রিয়াধে ভারতীয় দূতাবাস জানায়, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। সহ-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ গ্রেফতার করেছে। হামলার সঠিক উদ্দেশ্য এখনও তদন্তাধীন এবং ফ্লাইদুবাই আগেভাগে কোনও জল্পনা না করার আহ্বান জানিয়েছে।

ককপিটে হিংসাত্মক ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত বিমানযাত্রা ছিল স্বাভাবিক:

FZ1073 বিমানটি ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৬টা ৪৯ মিনিটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টেক অফ করে এবং প্রায় ৩৪,০০০ ফুট উচ্চতায় ওঠে।

যাত্রার প্রথম দিকে কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। ফাইনান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রীরা জানিয়েছেন, প্রথম আড়াই ঘণ্টা কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কেটেছিল এবং বিমানটি সৌদি আরবের উপর দিয়ে পশ্চিম দিকে উড়ছিল।

এরপর ককপিটে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পরে জানান, এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং তিনি বিমানটি ক্র্যাশ করানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইজরায়েলি আধিকারিকরা হামলাকারীকে ওমানের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেন।

ফ্লাইদুবাই অবশ্য শুধু নিশ্চিত করেছে যে “ফ্লাইট ডেকে একটি সংঘর্ষের ঘটনা” ঘটেছিল এবং এরপর ক্রুরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ সুরক্ষিত করে সেটির গতিপথ পরিবর্তন করেন। বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনার কারণ ও উদ্দেশ্য এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।

বিমানটি দ্রুত নীচের দিকে নামতে শুরু করে:

অনেক যাত্রীর কাছে কিছু একটা গুরুতর সমস্যা হয়েছে—এর প্রথম ইঙ্গিত ককপিটের ভিতরে কী ঘটছিল তা নয়, বরং বিমানটি কীভাবে চলছিল, তা থেকে আসে।

ফ্লাইট-ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির উচ্চতা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি ১৪,০০০ ফুটেরও বেশি নীচে নেমে যায়। আবার অন্য কিছু বিশ্লেষণে দীর্ঘতর সময়ের একটি পর্যায়ে মোট প্রায় ১৭,০০০-১৮,০০০ ফুট উচ্চতা কমে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঠিক কোন সময় থেকে বিমানটির অবতরণ মাপা হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে পরিসংখ্যানে এই পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

এক যাত্রী সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, প্রথমে তাঁর কাছে এই অনুভূতিটি অত্যন্ত তীব্র ঝাঁকুনির মতো মনে হয়েছিল। তিনি বলেন, “প্রায় ২০, ৩০ সেকেন্ড ধরে বিমানটি নীচে নামছিল, তারপর কিছুটা ভারসাম্যে আসে, এরপর আবার নীচে নামতে শুরু করে।”

বিমানের সামনের দিকে বসা যাত্রীরা বুঝতে শুরু করেন যে এটি সাধারণ ঝাঁকুনি নয়। ককপিটের আশপাশে উত্তেজনা ও হইচই শুরু হয়ে গিয়েছিল।

ফ্লাইট-ট্র্যাকিংয়ের তথ্যেও দেখা যায়, বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠাচ্ছিল। প্রথমে এটি ৭৭০০ সঙ্কেত ব্যবহার করে, যা সাধারণ জরুরি পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সঙ্কেত। পরে বিমানটি ৭৫০০ সঙ্কেত পাঠায়, যা বেআইনি হস্তক্ষেপ, যার মধ্যে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাইও রয়েছে, তা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

ককপিটের ভিতরে কী ঘটেছিল?

ককপিটের ভিতরের ঘটনা সম্পর্কে বর্ণনাগুলি বিশেষভাবে নাটকীয়। নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন মচ্ছারকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিটের মেঝেতে পড়ে ছিলেন। তবুও, স্পিলম্যান যাকে তাঁর “শক্তির শেষ মুহূর্ত” বলে বর্ণনা করেছেন, সেই সময় আহত ক্যাপ্টেন দরজা খোলার ব্যবস্থা করে ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন।

এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যাত্রীবাহী বিমানের ককপিট এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে উড়ানের সময় সেটি ভিতর থেকে লকড থাকে। ফলে কোনও সমস্যা হলে যাত্রীরা ইচ্ছেমতো ককপিটে ঢুকতে পারেন না। এই ক্ষেত্রে দরজা খুলে যাওয়ায় কেবিনে থাকা লোকজন ভিতরে কী ঘটছে তা দেখতে পান এবং হস্তক্ষেপ করতে পারেন।

স্পিলম্যান বলেন, গুরুতর সমস্যা হয়েছে বুঝতে পেরে যাত্রীরা দ্রুত বিমানের সামনের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে তাঁরা আহত ক্যাপ্টেনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন, আর অন্য পাইলটকে বিমানের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে অভিযোগ।

ইজরায়েলি প্লাম্বার ইয়ানিভ হায়ুন নামে এক যাত্রী পরে তিনি কী দেখেছিলেন তার বর্ণনা দেন। হায়ুন বলেন, বিমানটি হঠাৎ তীব্রভাবে নীচের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যার ফলে তিনি কেবিনের সামনের দিকে ছিটকে যান। তিনি ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে ধরে ফেলেন এবং তাঁকে চোকহোল্ডে আটকে রেখে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থেকে দূরে সরিয়ে দেন।

এরপর তিনি অল্প সময়ের জন্য নিজেই বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। হায়ুনের বক্তব্য অনুযায়ী, “আর বিমানটি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হতে শুরু করে।” এরপর “(তৃতীয়) পাইলট আমাকে বলেন, এখন থেকে তিনি নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন।”

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, হায়ুন হামলাকারী পাইলটকে বিমানের যন্ত্রপাতিতে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করতে দেখেছিলেন বলে মনে হয়। নেতানিয়াহু CNN-কে বলেন, হায়ুন বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের দিকে টেনে নেন এবং অন্য এক যাত্রী ও এক ক্রু সদস্য হামলাকারীকে কাবু করতে সাহায্য করেন।

যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে পড়েন:

একজন যাত্রী ককপিটে ঢোকার পরও লড়াই শেষ হয়নি। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানায়, যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ফ্লাইট ডেকের দিকে এগিয়ে যান এবং হামলাকারীকে আটকে রাখতে সাহায্য করেন। সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে দেখা যায়। পরে যাত্রীরা ককপিট পাহারা দেন।

বিমানটির ভিতরে তোলা একটি ভিডিও ফুটেজে এক যাত্রীকে বলতে শোনা যায়, “এইমাত্র আমাদের এই বিমানে হামলা করা হয়েছে।” অন্য একজনকে বলতে শোনা যায়, কাউকেই ককপিটের দরজা দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

পরে যাত্রী ড্যান সোলেন বলেন, বিমানের পিছনের দিকে বসে থাকা যাত্রীরা সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনা দেখতে পাননি। তবে সামনের দিক থেকে যাত্রীরা বেরিয়ে আসতে শুরু করলে তাঁরা বুঝতে পারেন যে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা যাত্রীদের ককপিট থেকে বেরিয়ে আসতে দেখলাম এবং সেখানে রক্ত ছিল।”

তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, তিনজন যাত্রী একজন পাইলটকে আটকে রাখতে সাহায্য করেন। অন্যদিকে, যাত্রী হিসেবে বিমানে থাকা আরও একজন পাইলট ককপিটে ঢুকে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলট কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিলেন:

FZ1073 বিমানে অতিরিক্ত ফ্লাইদুবাই পাইলটরা যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ করছিলেন। তাৎক্ষণিক সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর তাঁরা বিমানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম হন।

ফ্লাইদুবাইয়ের এক মুখপাত্র জানান, বিমানে থাকা একটি রিজার্ভ ক্রু বিমানটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে সেটিকে নিরাপদে অবতরণ করায়।

বিমানটি সৌদি-জর্ডান সীমান্তের কাছে পৌঁছনোর পর দিক পরিবর্তন করে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত সেটি তাবুকে ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি চায়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিমানটির কাছ থেকে পাঠানো জরুরি বার্তা পায়। বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। দুই পাইলটকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ক্যাপ্টেন মচ্ছারের শারীরিক অবস্থা:

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ক্যাপ্টেন মচ্ছারের পরিচয় প্রকাশ্যে আসে। তিনি একজন ভারতীয় নাগরিক এবং ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাণিজ্যিক বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এর আগে তিনি ১১ বছরেরও বেশি সময় স্পাইসজেটে কাজ করেছেন। ২০২২ সালের জুন মাসে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন। জানা গিয়েছে, গুজরাতি বংশোদ্ভূত স্মিত ২০১১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত স্পাইসজেটে বিমান চালিয়েছেন। ১১ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে দুবাইয়ের সংস্থায় যোগ দেন তিনি। সূত্রের খবর, বোয়িং৭৩৭ বিমানের বিশেষজ্ঞ স্মিত। নিজে বিমান চালানোর পাশাপাশি অন্য পাইলটদের মেন্টরিংয়ের কাজও তিনি করেছেন। ওয়েলিংকর ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের বিজনেস অ্যাডমিনস্ট্রেশনের ডিগ্রি রয়েছে তাঁর।

রিয়াধে ভারতীয় দূতাবাস বৃহস্পতিবার জানায়, ক্যাপ্টেন মচ্ছারকে তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করা হচ্ছে এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। দূতাবাস জানায়, “আমরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং তাঁদের আশ্বস্ত করছি যে, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখব এবং তাঁর সুস্থতার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করব।”

নেতানিয়াহু তাঁকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ বলে অভিহিত করলেন:

যাত্রীরা ইজরায়েলে ফিরে আসার পর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ক্যাপ্টেন মচ্ছারের প্রশংসা করেন। নেতানিয়াহু লেখেন, “অসাধারণ সাহসিকতার জন্য ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে আমার স্যালুট।”

তিনি বলেন, মচ্ছারকে “ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল এবং গুরুতর আহত হয়েছিলেন”, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি “পাল্টা লড়াই করেন, প্রতিরোধ করেন, ককপিটের দরজা খোলেন” এবং যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের হামলাকারীকে কাবু করার সুযোগ করে দেন।

নেতানিয়াহু বলেন, “তিনি ইজরায়েলি নাগরিক এবং অন্যান্য দেশের নাগরিক-সহ ১৭৪ জনের জীবন বাঁচিয়েছেন।” তিনি ক্যাপ্টেনের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং তাঁকে “সত্যিকারের নায়ক” বলে অভিহিত করেন।

ইজরায়েলে ফিরে আসার পর নেতানিয়াহু যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুনের সঙ্গেও দেখা করেন। সংঘর্ষের সময় তাঁর পোশাকে তখনও রক্তের দাগ ছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বর্ণনা করেন, কীভাবে তিনি হামলাকারীকে আটকে রেখেছিলেন এবং অল্প সময়ের জন্য বিমানটিকে স্থিতিশীল রাখতেও সাহায্য করেছিলেন। অন্যান্য ইজরায়েলি আধিকারিকরাও প্রকাশ্যে মচ্ছারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রশংসা, মচ্ছারকে বললেন ‘একজন HERO’:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং মাঝ আকাশে জরুরি পরিস্থিতির সময় তাঁর ভূমিকার জন্য তাঁকে “হিরো” বলে অভিহিত করেন। X-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “সবচেয়ে গুরুতর বিপদের মুখে এবং গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও, তিনি অসীম সাহস ও অন্যদের জীবন রক্ষার জন্য অটুট সঙ্কল্পের পরিচয় দিয়েছেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মচ্ছারের “বীরত্ব শত শত মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং একটি বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে”। তিনি আরও বলেন, “ভারত ক্যাপ্টেন মচ্ছারকে নিয়ে গর্বিত।” আহত পাইলটের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি লেখেন, “তাঁর দ্রুত সুস্থতা, নতুন শক্তি এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করছি।”

মাঝ আকাশে ককপিটে হামলার পর মচ্ছার সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন থাকার সময়ই প্রধানমন্ত্রী মোদির এই মন্তব্য আসে। রিয়াদে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ক্যাপ্টেনের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে দূতাবাস তাঁর পরিবার ও সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

এরপর কী ঘটেছিল?

জরুরি অবতরণের পর যাত্রীরা তাবুকে কিছু সময় অপেক্ষা করেন। পরে তাঁদের অন্য একটি বিমানে করে ইজরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়। সৌদি আরবের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার তদন্ত শুরু করেছে এবং জানিয়েছে, কী ঘটেছিল তা নির্ধারণ ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তাদের দল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

তদন্ত চলাকালীন ফ্লাইদুবাই ইজরায়গামী এবং ইজরায়েল থেকে আসা বিমান পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য ও প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণের সুযোগ পাবে।

কো-পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ফ্লাইদুবাই আগেভাগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর বিষয়ে সতর্ক করেছে। তদন্তকারীদের সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে, ফ্লাইট ডেকে ঠিক কী ঘটেছিল, কী কারণে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল, কীভাবে বিমানটি এতটা উচ্চতা হারিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে ক্রু ও যাত্রীরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

যা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট, তা হল সবচেয়ে সঙ্কটময় মুহূর্তে আহত এক ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্তই অন্যদের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ করে দেয়। FZ1073 বিমানে থাকা ১৭৪ জন মানুষের জন্য সেই দরজাটিই হয়ে উঠেছিল এক ভয়াবহ জরুরি পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য আরও ভয়াবহ পরিণতির মধ্যবর্তী সীমারেখা।

By Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WordPress Catalog Cannabio – Marijuana and Cannabis WordPress Theme Cannamed – Cannabis & Marijuana WordPress Cantiq – Beauty Spa Salon Therapy Elementor Template Kit Canvas – Interior and Furniture Agency WordPress Theme Canvas: Show any content in a fullscreen slide Capie – Minimal Creative WooCommerce WordPress Theme Capital Multi Purpose Business WordPress Theme Capitol – Creative Multi-Purpose WordPress Theme Capri – A Hot Multi-Purpose Theme Captcha Plus WordPress Plugin