সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI) সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘‘MeitY ইনস্টাগ্রামকে শিশুদেন যৌন নির্যাতন (CSEAM)-এ প্রবেশের সুযোগ করে দেয় বা তা প্রচার করে—এমন সব বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট অবিলম্বে নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছে।’’
এই অভিযোগ ওঠে সংবাদমাধ্যম বিবিসি (BBC)-র একটি প্রতিবেদনে সামনে আসার পর৷ ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, মেটার রিকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত ভিডিও প্রচারে ভূমিকা রাখছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম-এ এমন কিছু পেইড বিজ্ঞাপন দেখা গিয়েছে, যদিও মেটার বিজ্ঞাপন নীতিতে নগ্নতা ও যৌনতা স্পষ্ট হয় এমন ধরণের কনটেন্ট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ৷
অভিযোগ অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে ‘ধর্ষণের ভিডিও’ এবং ‘শিশুদের ভিডিও’-র মতো শব্দ ব্যবহার করে টাকার বিনিময়ে বিজ্ঞাপন (পেইড অ্যাডভার্টাইজমেন্ট) দেখানো হচ্ছিল। সেই বিজ্ঞাপন থেকে ব্যবহারকারীদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, যেখানে শিশু যৌন নির্যাতনের কনটেন্ট রীতিমতো বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
এই অভিযোগ সামনে আসার পরই কেন্দ্র সরকার মেটার কাছে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছে—
কীভাবে এই ধরনের বিজ্ঞাপন অনুমোদন পেল?
অভিযোগ সামনে আসার পর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কী ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
বিবিসির প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে পিটিআই-কে ই-মেইলে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মেটার এক মুখপাত্র বলেন, “CSAM সংগ্রহ, শেয়ার বা প্রচারের ক্ষেত্রে, এমনকি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও, আমাদের নীতি সম্পূর্ণ শূন্য সহনশীলতার (Zero Tolerance)। উন্নত AI প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা নিয়মভঙ্গকারী কনটেন্ট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সক্রিয়ভাবে শনাক্ত করি। তবে ৩.৫ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর মধ্যে অপরাধীরা নিজেদের আড়াল করে এবং আমাদের নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা করে, তাই এই লড়াই চলবে।”
তিনি আরও জানান, মেটার বিশেষজ্ঞ দল নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে, নতুন প্রযুক্তি তৈরি করছে, বেআইনি ওয়েবসাইটের লিঙ্ক ব্লক করছে এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে তথ্য ভাগ করে নিয়ে যৌথভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act) অনুযায়ী, শিশুদের যৌন নির্যাতনমূলক বা যৌন স্পষ্ট কনটেন্ট প্রকাশ বা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া গুরুতর অপরাধ। আইটি আইনের ৬৭বি (Section 67B) ধারায় অনলাইন শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।