আরাঘচি বলেন, “চুক্তি প্রায় প্রস্তুত। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত হবে। যখন তা স্বাক্ষরিত হবে, তখন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে এবং আমরা এর বিষয়ে বিস্তারিত জানাব।” তাঁর দাবি, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (Islamabad MoU) নামে পরিচিত এই চুক্তি আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই বা খুব শীঘ্রই সম্পন্ন হতে পারে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে একাধিক ক্ষেত্রে সংঘাতের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। তাঁর কথায়, “এই চুক্তির মাধ্যমে সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটবে, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে।” আরাঘচির মতে, চুক্তিতে উভয় দেশই নতুন করে কোনও সংঘাত শুরু না করা, একে অপরকে হুমকি না দেওয়া এবং শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দেবে। পাশাপাশি, একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
“আমার বিশ্বাস, গত ৪৭ বছরে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা লিখিতভাবে স্বীকার করেছে’’, জানালেন আরাঘচি৷ চুক্তির আওতায় উভয় দেশই পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার করবে। আরাঘচি বলেন, “আমেরিকা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না এবং আমাদের কাছ থেকেও একই প্রতিশ্রুতি চাওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ সমতার ভিত্তিতে করা হচ্ছে।”
আরাঘচি জানান, এই সমঝোতা স্মারক শুধু যুদ্ধবিরতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, সামুদ্রিক চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, ইরানের অবরুদ্ধ অর্থে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত বিষয়, সামুদ্রিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, পরবর্তী দফার আলোচনার কাঠামো, ইরানের পরমাণু ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা—সবই এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত।” তবে এসব ব্যবস্থার বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে পরবর্তী আলোচনায় বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আরাঘচি স্পষ্ট করেন যে এই সমঝোতা স্মারক বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ মাত্র। আরও কঠিন আলোচনা এখনও বাকি রয়েছে। তাঁর মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা দ্বিতীয় পর্যায়ে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, “যুদ্ধের অবসান ঘটানোর এই আলোচনা দুই ধাপে এগোবে।”
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের কাঠামো তৈরি করা হবে এবং যেসব বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে, সেগুলি চূড়ান্ত করা হবে।
এরপর ৬০ দিনের একটি দ্বিতীয় দফার আলোচনা হবে, যেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
আরাঘচি বলেন, “বিভিন্ন কারণে আমরা পরমাণু ইস্যুকে চূড়ান্ত চুক্তির পর্যায়ে সরিয়ে রেখেছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ বিষয়ে অর্থবহ আলোচনা সম্ভব ছিল না এবং কিছু প্রস্তাব আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ছিল।”
যদিও তিনি প্রস্তাবিত চুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন, তবুও আরাঘচি জোর দিয়ে বলেছেন যে আলোচনা এখনও চলছে এবং এখনও কোনও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। তাঁর কথায়, “এখনও কোনও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। যদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে আমি এর প্রতিটি ধারা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করব।”