নিউজ১৮-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পরিচালক ভারত এস. শ্রীনাত এই বিষয়ে কথা বলেছেন। সলমন খানের আইনি নোটিশ এবং আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কালা হিরণের পরিচালক। তিনি বলেন, “সলমন খান ঈশ্বর নন। তিনি আমার গডফাদার নন। তিনি আমাকে থামাতে পারবেন না। তিনি আমাকে বা আমার ক্যারিয়ারকে ধ্বংসও করতে পারবেন না, গড়তেও পারবেন না।”
ভারত এস. শ্রীনাত আরও বলেন যে, পুরো দলের বছরের পর বছর গবেষণা ও কঠোর পরিশ্রমের পর ছবিটি তৈরি হয়েছে। তাই, আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ছবিটি বন্ধ করার এই আকস্মিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি সালমান খানকে কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছে প্রথমে ছবিটি দেখার পরামর্শ দিয়েছেন।
ছবিটির ফার্স্ট লুকে প্রধান অভিনেতা কাসিম ইকবাল খান ‘আয়ান খান’ নামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ভিডিওটিতে তাঁকে সলমন খানের মতো বিখ্যাত নীল ব্রেসলেটটি পরতে দেখা গেছে, যা সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর জবাবে পরিচালক বলেন, “ওই ব্রেসলেটটি কারও জন্য নির্দিষ্টভাবে তৈরি হয়েনি৷ সলমন যদি মনে করেন যে শুধু তিনিই এটি পরতে পারেন, তাহলে তার এটি পেটেন্ট করে নেওয়া উচিত, যাতে এটি বিশ্বের আর কোথাও পাওয়া না যায়।”
সলমন খানের সঙ্গে কাসিম ইকবাল খানের চেহারার সাদৃশ্য প্রসঙ্গে তিনি নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর ‘ঠাকরে’ সিনেমার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, “নওয়াজকে প্রোস্থেটিকসের মাধ্যমে বাল ঠাকরের মতো চেহারা করতে হয়েছিল। কিন্তু আমাদের ছবিতে আমরা কোনও প্রোস্থেটিকস ব্যবহার করিনি। আমাদের অভিনেতার চেহারা স্বাভাবিকভাবেই সলমন খানের মতো। আমি তার চেহারা বদলাতে পারি না।”
সলমন খান ছবিটির প্রচার, নির্মাণ এবং মুক্তির উপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশ চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর আবেদনে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ছবিটি তাঁর ব্যক্তিত্বের অধিকার লঙ্ঘন করছে। সলমনের আইনজীবী নিজাম পাশা আদালতকে জানান যে, ২৯শে মে প্রকাশিত ছবিটির পোস্টারে সলমনের মতো দেখতে একটি চরিত্র উঠে আসে, যার হাতে রয়েছে সলমনের মতো ব্রেসলেট। আবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, অস্ত্র আইন মামলায় সলমন খালাস পেলেও চরিত্রটিকে একটি অস্ত্র হাতে দেখানো হয়েছে।
এর আগেই‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটেল ফর লিগ্যাসি’ থেকে অভিনেতা গোবিন্দ নামদেব নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন। অমিত জানি প্রযোজিত এই ছবিতে নামদেবকে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের পক্ষে ন্যায়বিচার চাওয়া একজন আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যাবে। এর ফার্স্ট লুক টিজার প্রকাশের পর, এতে সলমন খানের প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ বলে একটি বিতর্ক সৃষ্টি হয়। নামদেব এখন দাবি করেন যে তিনি ‘কালা হিরণ’-এর আসল কাহিনি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাঁকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। এর পরপরই, জানি তাঁকে একটি আইনি নোটিশ পাঠান, যেখানে সাত দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি প্রযোজনা সংস্থাকে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করার দাবি জানানো হয়।
সলমন খান দাবি করেছেন যে, ছবিটির পোস্টার এবং প্রচারমূলক সামগ্রী তাঁর প্রতি “স্পষ্ট এবং সরাসরি ইঙ্গিত” করছে। তিনি আরও বলেন যে, ছবিটি ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত, যা এখনও রাজস্থান হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। দিল্লি হাইকোর্ট ২০২৫ সালের ১১ই নভেম্বর সলমন খানের ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষার আদেশ দেয়। এর আগে সলমন ২০২৬ সালের ২৪শে এপ্রিল ছবির পরিচালক-প্রযোজকদের একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন।
সলমন খানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ কালা হিরণ ছবির পরিচালক-প্রযোজকদের নোটিশ জারি করেছে। আদালত আজ, ১৯ জুন, ২০২৬ তারিখে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। আদালত জানিয়েছে যে, কোনও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বিবেচনা করার আগে প্রযোজকদের পক্ষ থেকে জবাব আবশ্যক।