Last Updated:
Siya Goyal-Sonam Raghuvanshi: রাজা রঘুবংশীর সঙ্গে কেতন আগরওয়ালের খুনের ঘটনার মিল কেবল কাকতালীয় নয়! কেতনকে খুনের ছক কষার আগে সোনমের কাণ্ড নিয়ে রীতিমতো ‘রিসার্চ’ করেছিলেন সিয়া৷
পুণে: কেতন আগরওয়ালের খুনের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই ফের চর্চায় শুরু হয় কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ড নিয়ে৷ কারণ দুই ঘটনার অদ্ভুত সামঞ্জস্য৷ দুটি ক্ষেত্রেই স্বামী বা হবু স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া, তারপর পাহাড়ের ওপর থেকে খাদে ধাক্কা দেওয়াই হোক বা প্রেমিকের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র৷ কিন্তু এত মিল, সবই কি কাকতালীয়? তদন্তে প্রকাশ, রাজা রঘুবংশী হত্যার পরিকল্পনা থেকে শিক্ষা নিয়েই আরও নিখুঁতভাবে কেতনকে খুনের ছক কষেছিলেন চেতন এবং সিয়া৷
তদন্তে উঠে এসেছে, দুই ঘটনাতেই স্বামী বা হবু স্বামীকে দুই ঘটনাতেই ভুক্তভোগীকে পাহাড়ের খাদে ঠেলে ফেলে হত্যা করা হয়। তবে তদন্তকারীদের দাবি, রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন সিয়া। সেই জন্যই আরও নিখুঁত পরিকল্পনা সাজাতে পেরেছিলেন। ঘটনাস্থলে কোনও প্রমাণ রাখেননি। যাতে সহজেই গোটা বিষয়টা ধামাচাপা দেওয়া যায়। এমনকী সোনম রঘুবংশী সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় নাকি রীতিমতো খুঁটিয়ে পড়তেন সিয়া৷
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হত্যার আগে সিয়া গয়াল রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত একাধিক খবর পড়েছিলেন সিয়া। তাঁর মোবাইল ফোনের ব্রাউজিং হিস্ট্রি থেকে সেই তথ্য মিলেছে। এছাড়াও, তিনি পুলিশি হেফাজতে মহিলাদের মারধর করা হয় কি না এবং মহিলা বন্দিদের অধিকার সম্পর্কেও ইন্টারনেটে খোঁজ করেছিলেন। গয়াল পরিবারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া আরও একটি মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠান হয়েছে। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, ওই ফোন থেকে হত্যার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
এক তদন্তকারী আধিকারিকের দাবি, এটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁর কথায়, “সিয়ার ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মানসিক অবস্থান এবং পারিবারিক ও সামাজিক চাপ মিলিয়েই সে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে কেতনকে সরিয়ে দেওয়াই একমাত্র পথ।”
আরও এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “একটি মাত্র কারণ নয়, বরং একাধিক বিষয় সিয়াকে এই সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেছে। কেতনকে হত্যা করার স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল এবং ধরা পড়া এড়াতে তারা আগেভাগেই ‘অ্যালিবাই’ তৈরি করেছিল।” পুলিশের দাবি, এখনও পর্যন্ত সিয়া গয়াল এবং চেতন চৌধুরীর মধ্যে অনুশোচনার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। তদন্তকারীদের আশা, বিচারবিভাগীয় হেফাজতে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর হয়তো তাঁদের নিজের কাজের গুরুত্ব উপলব্ধি হবে।
তদন্তকারীদের মতে, কেতনের পরিবারের প্রথম থেকেই সন্দেহ ছিল এটি দুর্ঘটনা নয়। পুলিশেরও সন্দেহ হয়, কারণ যে জায়গা থেকে কেতন পড়ে গিয়েছিলেন, লোহাগড় দুর্গের ট্রেকিং রুটের সেই অংশটি তুলনামূলকভাবে খুব বেশি বিপজ্জনক ছিল না।
এদিকে, রাজা রঘুবংশীর মা উমা রঘুবংশী বলেছেন, কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ড তাঁর ছেলের ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দুই অভিযুক্তের মধ্যেই কোনও অনুশোচনা নেই। পাশাপাশি তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সোনম রঘুবংশীর জামিনে মুক্তি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে অভিযুক্তদের আরও সাহস জোগাতে পারে, যদিও রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার বিচার এখনও শিলংয়ে চলছে।
Kolkata,West Bengal
