Last Updated:
Kharagpur IIT: শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে অনন্য নজির! ২০১৭, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৪-এর পর ২০২৬ সালেও দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘CSR Top Institute’ সম্মানে ভূষিত হল আইআইটি খড়গপুর। যা নিয়ে এখন গর্বের শেষ নেই আইআইটি পরিবারের।
খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: আইআইটি খড়গপুর ফের একবার দেশের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখল। সম্প্রতি প্রতিযোগিতা সাফল্য সমীক্ষা বা কম্পিটিশন সাকসেস রিভিউ (CSR)-এর পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে মর্যাদাপূর্ণ ‘CSR Top Institute of India 2026’ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্পের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ এবং সামগ্রিক শিক্ষাদানের উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান প্রদান করা হয়। এ নিয়ে পঞ্চমবার এই সম্মান অর্জন করল আইআইটি খড়গপুর। ফের সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যুক্ত হল দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়গপুরের। উৎকর্ষ এবং শ্রেষ্ঠত্বের নিরিখে এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের নিরলস প্রচেষ্টার এক বড় প্রাপ্তি।
এ নিয়ে মোট পঞ্চমবার এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত হওয়া আইআইটি খড়গপুর, এর আগে ২০১৭, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৪ সালেও এই গৌরব অর্জন করেছিল। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্পের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি সামগ্রিক শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে আইআইটি খড়গপুর যে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, এই পুরস্কার তারই এক স্পষ্ট প্রমাণ। ইনস্টিটিউটের তরফে এই সম্মান গ্রহণ করেন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স বিভাগের সহযোগী ডিন অধ্যাপক নীরজ কুমার গোয়াল।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত আইআইটি খড়গপুর হল ভারতের প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি। স্বাধীনতার পর দেশের প্রযুক্তি শিক্ষাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্প-এর প্রাঙ্গণেই শুরু হয় এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা। যে স্থান একসময় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বন্দিশিবির ছিল, সেই স্থানই পরে দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ১৯৫৬ সালে ভারত সরকার আইআইটি খড়গপুরকে ‘ইনস্টিটিউট অফ ন্যাশনাল ইম্পর্টেন্স’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
প্রতিষ্ঠানের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত গোটা আইআইটি পরিবার। কর্তৃপক্ষের মতে, এই কৃতিত্ব কেবল প্রতিষ্ঠানের একার নয়, বরং এর পিছনে রয়েছে সমস্ত অধ্যাপক, শিক্ষার্থী, গবেষক, কর্মী এবং প্রাক্তনীদের সম্মিলিত শ্রম ও নিষ্ঠা। দেশের শিক্ষা মানচিত্রে এক নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পর, আইআইটি খড়গপুর এখন ভবিষ্যতের কাণ্ডারিদের তৈরি করার ব্রত নিয়েছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই পড়াশোনা করেছেন। দেশ ও বিদেশের পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একাধিক কৃতি ছাত্র-ছাত্রী প্রতিষ্ঠিত। একাধিক গবেষক তৈরি করেছে প্রাচীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
‘বিকশিত ভারত’ গড়ার যে জাতীয় স্বপ্ন রয়েছে, তার অংশীদার হিসেবে নিজেদের দায়বদ্ধতা পূরণে প্রতিষ্ঠানটি সর্বদা অবিচল। এই সম্মান আগামী দিনে আরও বড় লক্ষ্য অর্জনে আইআইটি খড়গপুরকে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে। তবে এক দু বছর নয় টানা পাঁচ বছর এই সম্মানের সম্মানিত হওয়ায় খুশির হাওয়া আইআইটি জুড়ে।
Paschim Medinipur,West Bengal
