Last Updated:
CPIM Leader on Lenin Sarani: লেনিন সরণি থেকে মহাকরণের দূরত্ব মেরেকেটে ১০ মিনিট। ক্ষমতার সেই অলিন্দে যত গাঢ় হয়েছে লাল রং। কলকাতার মানচিত্রে ততই উজ্জ্বল হয়েছে লেনিন সরণির উপস্থিতি ৷ অনেকে বলেন, বাম আমলে নেতারা মাছ-ভাত বললে কর্মীরা শুনতেন ‘মার্কসবাদ’। বামপন্থা মিশে গিয়েছিল বাঙালির আটপৌড়ে জীবনে। তাই কলকাতায় যখন লেনিনের মূর্তি বসানো হয়, হয়তো কেউ-ই প্রশ্ন তোলেননি।
কলকাতা: বাঁ হাতে টিপু সুলতান মসজিদকে রেখে ধর্মতলা থেকে মৌলালি পর্যন্ত রাস্তা৷ নাম লেনিন সরণি৷ পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা৷ সেই কলকাতার নাম কেন রাশিয়ার কোনও রাজনৈতিক নেতার নামে হবে? দ্বিতীয় পরিবর্তনের বাংলায় লেনিন সরণির নাম বদলের দাবি তুলছে বিজেপি নেতা থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক কর্মীদের একাংশ৷
সম্প্রতি এনিয়ে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বিজেপি জন্মের আগে থেকে লেলিনের নামে রাস্তা তৈরি হয়েছে। নাম পরিবর্তন করতে যাওয়া আসলে ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা। যেভাবে তৃণমূল করত। সেই কাজই করছে। মেক্সিকোয় গান্ধির মূর্তি রয়েছে। রবীন্দ্রনাথের মূর্তি রয়েছে বিভিন্ন দেশে। এভাবে ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। মাথায় রাখবেন জ্যোতি বসু সরকারে থাকার সময় সল্টলেকের নাম বিধাননগর করেছিল। সেটাই গণতন্ত্র।’’
তবে লেনিনের নামাঙ্কিত সড়ক নিয়ে সমস্যা থাকলেও কলকাতার রাস্তা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে করার পক্ষে কথা বলেছেন তিনি৷ এ প্রসঙ্গে কী জানালেন সুজন?
সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘দ্বিতীয়ত, সজল বাবু বলছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে নামকরণ করা হতে পারে। আমি বলব যখন তিনি তৃণমূলে ছিলেন তখন জ্যোতি বসু নগর নামকরণ করা হয়েছিল তৎকালীন বাম সরকারের পক্ষ থেকে৷ সেই নাম পরিবর্তন করে ফেলা হয় (২০১১ সালে তৃণমূল সরকার আসার পরে)। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে নামকরণ যদি করা হয় সেটা হবে, তা বলে লেলিন সরণির নাম সরিয়ে ফেলার মধ্যে দুটোকে গুলিয়ে ফেলবেন না।’’
রুশ বিপ্লবে বলশেভিকদের নেতা। ভ্লাদিমির লেনিন। তাঁর নামেই কলকাতায় রয়েছে রাস্তা। ব্রিটিশ আমলে এই রাস্তার নাম ছিল ‘ধর্মতলা স্ট্রিট’ ৷ ১৯৬৯ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের আমলে ধর্মতলা স্ট্রিট হয়ে যায় লেনিন সরণি। ভ্লাদিমির লেনিনের নামে এই যুক্তফ্রন্ট সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু।
বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ আরও জানান, ‘‘যাঁর সঙ্গে ভারতের কৃষ্টি, কালচার, সংস্কৃতির মিল নেই, যাঁরা ভারত নামটাই মুখে আনেননি, ভারত বলে একটা দেশ আছে সেটাও জানত কি না জানি না। তাঁকে এত গৌরবান্বিত করার প্রয়োজনটা কী। তাঁর লেখা বইয়ে ভারতবর্ষ আছে কি না আমি তাও জানি না। যদি থাকে ভাবনাচিন্তা করবে, না হলে ডিলিট করে দেবে। অনেক তো হল। এবার দেশের ঠাকুরকে পুজো করুন না। রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করে বলছি, আমরা বিদেশি তো অনেক পুজো করলাম। এবার দেশের ঠাকুর পুজো পান না। লেনিন সরণির নাম বদলে বুদ্ধদেববাবুর নামে হলে আমাদের আপত্তি নেই ৷’’
