নয়াদিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন রুবিও। পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক এবং সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বের বহু দেশের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে কাজ করি। ভারতও তাই করে। দায়িত্বশীল রাষ্ট্রগুলি এভাবেই সম্পর্ক বজায় রাখে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের কোনও দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককেই আমি ভারতের সঙ্গে কৌশলগত জোটের পরিপন্থী বলে দেখি না।” তবে সামরিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি রুবিও।
‘ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে’
সাংবাদিক বৈঠকে রুবিও বারবার জোর দিয়ে বলেন, ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের গতি কখনও কমেনি, বরং আগামী দিনে তা আরও শক্তিশালী হবে। বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও তিনি আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করেন।
রুবিওর দাবি, প্রায় সব বড় আন্তর্জাতিক ইস্যুতেই ভারত ও আমেরিকার অবস্থান কৌশলগতভাবে একসুরে রয়েছে। তিনি ভারতকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার বলেও উল্লেখ করেন।
তাঁর কথায়, “কৌশলগত অংশীদারিত্ব তখনই গড়ে ওঠে, যখন দুই দেশের স্বার্থ একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং তারা একসঙ্গে সমস্যার সমাধানে কাজ করে।”
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, ইন্দো-প্যাসিফিক ও বাণিজ্যে জোর
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন রুবিও। তিনি বলেন, “দুই দেশই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে। সেই কারণেই সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা আরও মজবুত হয়েছে।”
এছাড়াও উদীয়মান প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ এবং “মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক” বজায় রাখার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন মার্কিন বিদেশ সচিব। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আকাশপথ ও সমুদ্রপথে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতেও ভারত ও আমেরিকা একসঙ্গে কাজ করছে।
অন্য দিকে, জয়শঙ্কর জানান, বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া, ভারতীয় উপমহাদেশ ও পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সমুদ্রপথে বাণিজ্যের অবাধ চলাচলের পক্ষে ভারতের অবস্থানও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই দেশের অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা এবং জ্বালানি অংশীদারিত্বের সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান বিদেশমন্ত্রী।
শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছনো রুবিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার বিষয় নয়, বরং ইতিমধ্যেই শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে থাকা অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।