Last Updated:
Money Making Idea: চিন বা হিমালয় নয়, এবার পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নাতেই ফলছে মহার্ঘ্য ঔষধি মাশরুম কর্ডিসেপস মিলিটারিস। আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ল্যাব তৈরি করে এই ‘সুপারফুড’ উৎপাদন করে চমক দিয়েছেন সন্দীপ মাইতি।
ময়না, সৈকত শী: বিশ্বের বাজারে একটি পরিচিত নাম কর্ডিসেপস মিলিটারিস। যা এক ধরনের মাশরুম। মূলত হিমালয়ান পার্বত্য অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। কর্ডিসেপস মিলিটারিস হল একটি ঔষধি মাশরুম, এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার কর্ডিসেপিন, পলিস্যাকারাইড ও অ্যাডেনোসিন। তাই এটি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং আধুনিক প্রোটিন সাপ্লিমেন্টে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। প্রদাহ কমান, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্লান্তি দূর করা এবং শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনের মতো সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত সুবিধার জন্য এটি সমাদৃত। ফলে বিশ্বের বাজারে এর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। কিন্তু এটি মূলত হিমালয়ান পার্বত্য অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়। মেডিসিন ইন্ডাস্ট্রিতে এর চাহিদা থাকায় বর্তমানে বাণিজ্যিক চাষের আগ্রহ বাড়ছে।
চিনে এই মাশরুমের ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন হয় ফার্মের মাধ্যমে। ভারতবর্ষে এর ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়নি। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নার এক উদ্যোগপতি সেই কাজটা করে দেখালেন। তিনি বাড়ির পাশে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে অত্যাধুনিক ফার্মে কর্ডিসেপস মিলিটারিস মাশরুম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছেন সফলভাবে। কর্ডিসেপস মিলিটারিস মাশরুমের ঔষধি গুণাবলী হল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিটিউমার, অ্যান্টিমেটাস্ট্যাটিক এবং ইমিউনোমডুলেটরি প্রভাব থাকার কারণে এটি একটি জনপ্রিয় জৈব-কার্যকরী খাদ্য উৎস। কর্ডিসেপস মিলিটারিস-এর প্রধান যৌগগুলির মধ্যে রয়েছে কর্ডিসেপিন, পলিস্যাকারাইড, আরগোস্টেরল এবং অ্যাডেনোসিন, চিকিৎসা বিজ্ঞানে কাজে লাগে।
শুধু ওষুধ তৈরির শিল্পে না এই মাশরুম সরাসরি খাওয়া যায়। গরম জলে চায়ের মতো করে বানিয়ে বা স্যুপের মাধ্যমে। কর্ডিসেপস মিলিটারিস বাণিজ্যিকভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ করা হয়, যেখানে প্রায়শই চাল-ভিত্তিক সাবস্ট্রেট ব্যবহার করা হয়, যার ফলে একটি ৪০-৫৫ দিনের উৎপাদন চক্র সম্পন্ন হয়। ময়নার সন্দীপ মাইতি যা সফলভাবে বাণিজ্যক উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি জানান, “সাধারণত ইমিউনিটি শক্তি, কিডনির কার্যকারিতা এবং সার্বিক প্রাণশক্তি বাড়াতে খাদ্য সম্পূরক হিসেবে গ্রহণ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা রয়েছে। ভারতের বাজারেও ধীরে ধীরে চাহিদা বাড়ছে।
সন্দীপ মাইতি আগে একটি ব্যবসা করলেও চলতি বছরের শুরু থেকেই এই মাশরুম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো প্রয়োজনীয় ট্রেনিং নেন। বর্তমানে এই হিমালয়ান মাশরুম উৎপাদন করে তিনি বাজারজাতক করছেন। এর ফলে এলাকায় কর্মসংস্থানে তৈরি হয়েছে। আগামী দিনের সন্দীপ মাইতি এই মাশরুমের উৎপাদন আরও বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছেন। তিনি উদাহরণ তৈরি করেছেন, আধুনিক পদ্ধতিতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফার্ম তৈরি করে মোটা টাকা রোজগার করা যায়, শুধুমাত্র উদ্যোগ আর ইচ্ছা থাকলেই সম্ভব। সেই উদ্যোগ আর ইচ্ছা থেকেই বাড়িতেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট ফর্মে উৎপাদন করছেন হিমালয়ান মাশরুম কর্ডিসেপস মিলিটারিস।
Purba Medinipur,West Bengal
Money Making Idea: চাষ হবে বাড়িতেই, আয় হবে কোটিতে! অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর হিমালয়ান এই মাশরুম ফলিয়ে ব্যাপক আয়ের দিশা দেখাচ্ছেন ময়নার দম্পতি