Last Updated:
Money Making Opportunities: গোয়ার ধাঁচে এবার ঝাড়গ্রামেও কাজু ফল থেকে ওয়াইন তৈরির উদ্যোগ। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কাজু ফলের নতুন বাজার তৈরির পাশাপাশি চাষিদের আয় বাড়তে পারে এবং জঙ্গলমহলে তৈরি হতে পারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ।
ঝাড়গ্রাম, রঞ্জন চন্দ: এবার গোয়ার বিখ্যাত ওয়াইন তৈরি হতে চলেছে জঙ্গলমহলে। নতুনভাবে যুবসমাজ স্বনির্ভরতার দিশা দেখছে। সরকারের পালা বদলের পর ঝাড়গ্রামের বিধায়কের হাত ধরে এলাকায় নতুন শিল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জঙ্গলের কাজু ফলকে কাজে লাগিয়ে নতুনভাবে প্রাকৃতিক ব্যবসার দিশা দেখছে সকলে। ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউয়ের উদ্যোগে জঙ্গলমহলে তৈরি হতে চলেছে এই ‘কেশিও ওয়াইন’ কারখানা। সাধারণত কাজুর বীজ ছাড়িয়ে নেওয়ার পর বাকি ফলটি পুরোটাই নষ্ট হয়। এবার সেই ফেলে দেওয়া ফল থেকেই গোয়ার ধাঁচে ওয়াইন তৈরি করে দেশ-বিদেশে রফতানি পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় এখান থেকে প্রক্রিয়াজাত ওয়াইন বাজারের পাশাপাশি রফতানি করা যাবে।
কাজুর ফলকে বিশেষ প্রক্রিয়াজাত করে মূলত দু’ধরনের ওয়াইন তৈরি হয়— উরাক এবং ফেনী। প্রথম ধাপে তৈরি উরাকে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ অ্যালকোহল থাকে। এরপর তাকে দ্বিতীয়বার প্রক্রিয়াজাত করলে তৈরি হয় ফেনী, যেখানে অ্যালকোহলের মাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ। তীব্র সুগন্ধ এবং কড়া স্বাদের এই কাজু ফেনী গোয়ার সুরাপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়, যার জন্য ২০০৯ সালে গোয়া জিআই ট্যাগও পেয়েছে। এবার সেই একই ওয়াইন তৈরি হবে ঝাড়গ্রামের কারখানায়, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য বেশ ভাল একটি পদক্ষেপ।
জঙ্গলমহলের লালমাটিতে কাজুর ফলন বেশ ভাল। জেলা উদ্যানপালন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নয়াগ্রাম, ঝাড়গ্রাম-সহ কয়েকটি ব্লক মিলিয়ে ৩,৪১৫ হেক্টর জায়গায় কাজু বাগান রয়েছে। সেখান থেকে বছরে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিকটন কাজুর ফল বা আপেল পাওয়া যায়, যা এতদিন পুরোটাই নষ্ট হত। অনেক সময় হাতি বা গবাদি পশুরা তা খেয়ে ফেলত। এই কারখানা গড়ে উঠলে কাজু বাগানের মালিকরা ফেলে দেওয়া ফল কেজি প্রতি পাঁচ থেকে দশ টাকায় বিক্রি করে বাড়তি রোজগারের মুখ দেখবেন। ফলত, নষ্ট হওয়া ফলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল কর্মসংস্থান। স্থানীয়দের মতে, এলাকায় কাজের সুযোগ না থাকায় অনেককেই গুজরাট বা মুম্বইয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে হয়। ওয়াইন কারখানা তৈরি হলে এলাকার যুবকদের আর কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না, স্থানীয় অনেক তরুণের নিজেদের এলাকায় কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে এবং অন্যান্য যুবকরাও তাদের মত স্বনির্ভর হতে পারবেন। এই শিল্পের পাশাপাশি বিনপুর ও মানিকপাড়ায় দুগ্ধ প্রকল্প এবং শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কথাও জানিয়েছেন বিধায়ক। সব মিলিয়ে, এই নতুন উদ্যোগ জঙ্গলমহলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে।
Kolkata,West Bengal
