Last Updated:
৫০-৩০-২০ নিয়ম, মাসিক বাজেট এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর মতো সহজ অভ্যাসে প্রতি মাসে ভাল সঞ্চয় করা সম্ভব। আলাদা সেভিংস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার ও পরিকল্পিত খরচ ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
কলকাতাঃ প্রতিমাসে আয় হওয়ার পর অনেকেই ঠিক করেন কিছু টাকা সঞ্চয় করবেন। কিন্তু মাস শেষ হওয়ার আগেই খরচ বেড়ে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয় না। ফলস্বরূপ প্রয়োজনে বন্ধু, আত্মীয় বা অন্য কারও কাছ থেকে ধার নিতে হয়। তবে কয়েকটি সহজ আর্থিক অভ্যাস গড়ে তুললে প্রতি মাসেই ভালো পরিমাণ টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব।
অর্থ বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয়ের অন্যতম জনপ্রিয় পদ্ধতি হল ৫০-৩০-২০ নিয়ম। এই নিয়ম অনুযায়ী মাসিক আয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচের জন্য, ৩০ শতাংশ নিজের ইচ্ছা বা জীবনযাত্রার জন্য এবং অন্তত ২০ শতাংশ সঞ্চয়ের জন্য আলাদা রাখা উচিত। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে খরচ ও সঞ্চয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।
এছাড়া প্রতি মাসের শুরুতেই একটি নির্দিষ্ট বাজেট তৈরি করা জরুরি। বাড়ির বাজার, বিদ্যুৎ বিল, যাতায়াত, পোশাক বা অন্যান্য খরচের জন্য আগে থেকেই অর্থ নির্ধারণ করে রাখলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় অনেকটাই কমানো যায়। একই সঙ্গে মাস শেষে কত টাকা সঞ্চয় করা হবে, সেটিও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোও সঞ্চয়ের বড় উপায়। যেমন, প্রয়োজন না থাকলে বারবার নতুন পোশাক না কেনা, ঘন ঘন অনলাইনে খাবার অর্ডার না করে বাড়ির খাবার খাওয়া বা হঠাৎ করে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়িয়ে চলা। ছোট ছোট এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য সঞ্চয় গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
যাঁদের হাতে টাকা থাকলে সহজেই খরচ হয়ে যায়, তাঁদের জন্য একটি আলাদা সেভিংস অ্যাকাউন্ট রাখা কার্যকর হতে পারে। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সেই অ্যাকাউন্টে জমা রাখলে এবং সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ইউপিআই, এটিএম বা দৈনন্দিন লেনদেনের সুবিধা যুক্ত না করলে সহজে সেই অর্থ খরচ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।
নিয়মিত সঞ্চয় করার জন্য বড় আয়ের প্রয়োজন হয় না। বরং সঠিক পরিকল্পনা, বাজেট মেনে চলা এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী আর্থিক সঞ্চয় গড়ে তোলা সম্ভব।
Kolkata,West Bengal
