Last Updated:
Nadia News: নদিয়ার কালীগঞ্জে দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার। ধৃতদের নাম সাদ্দাম হোসেন ও আক্তার শেখ।উদ্ধার হয়েছে নগদ ৩২ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণে মাদক ও মাদক তৈরির সামগ্রী। উদ্ধার রহস্যময় রাসায়নিক। ধৃতদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের যোগ।
কালীগঞ্জ, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ ৩২ লক্ষাধিক টাকা ও মাদক তৈরির একাধিক রাসায়নিক কাঁচামাল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম সাদ্দাম হোসেন শেখ এবং আক্তার শেখ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার অন্তর্গত মীরাবাজার আরওপি -র পুলিশ কর্মীরা একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য পান।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের হেফাজত থেকে নগদ ৩২ লক্ষ ১৪ হাজার ২৯০ টাকা এবং ৫৪৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে শুধু তৈরি মাদকই নয়, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে মাদক তৈরির বেশ কিছু “রহস্যময়” রাসায়নিক উপাদানও। যার মধ্যে রয়েছে স্থানীয়ভাবে ‘চায়না কড’ নামে পরিচিত ১ কেজি ৫৮৪ গ্রাম ওজনের একটি কালো রঙের গুঁড়ো পদার্থ এবং ‘গোরানি’ নামে পরিচিত ২৯৭ গ্রাম সাদা রঙের গুঁড়ো। এ ছাড়াও মাদক কারবারিদের থেকে ৪ কেজি ৮৩৩ গ্রাম সোডিয়াম কার্বোনেট অ্যানহাইড্রাস বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, নিজের এলাকায় একজন নিরীহ টোটোচালক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন অভিযুক্ত। সাদামাটা বাড়িতেই বসবাস করতেন তিনি। কিন্তু পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল, টোটো চালাকের আড়ালে চলত অবৈধ মাদকের রমরমা কারবার। যে কারণে গোয়েন্দারা নজর রাখছিলেন অভিযুক্ত সাদ্দামের ওপর। তারপর সময় বুঝে হানা দেয় পুলিশ। প্রতিবেশী ‘নিরীহ’ টোটো চালকের এই লুকানো রূপ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি প্রতিবেশীরা। ফলে আসল সত্যি সামনে আসতেই রীতিমতো হকচকিয়ে গিয়েছেন সকলেই।
প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া রাসায়নিকগুলি হেরোইনের পরিমাণ বাড়াতে বা তা প্রক্রিয়াকরণ করতে ব্যবহার করা হত। ধৃত সাদ্দাম ও আক্তারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন বা এনডিপিস অ্যাক্টের ২১(সি) এবং ২৯ নম্বর ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করে মামলা রুজু করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা কোথা থেকে এল এবং উদ্ধার হওয়া মাদক ও রাসায়নিকের উৎস কী, তা জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
স্বাভাবিকভাবেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মাদক তৈরির উপাদান উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। এর আগেও একাধিকবার এই এলাকায় মাদক পাচারকারীদের আনাগোনা যে লেগেছিল তা গোপন সূত্র মারফত খবর পাওয়া যেত। এদিন এই পাচারকারী এবং মাদক তৈরির উপাদান উদ্ধার হওয়াতে আশা করা যাচ্ছে এই চক্রের পেছনে কোনও বড় আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের হাত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।
Nadia,West Bengal
