Last Updated:
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে ইউরেনিয়াম, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিনিয়োগে একাধিক বড় চুক্তি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই উদ্যোগ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, চিনের উপর নির্ভরতা কমানো এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জুলাই ২০২৬-এ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরকে ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সফরে দুই দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, কৃষি এবং বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসার এবং উন্নত উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করবে।
অস্ট্রেলিয়া সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হল ঐতিহাসিক ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি। বিশ্বের মোট ইউরেনিয়াম মজুতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অস্ট্রেলিয়ার দখলে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) নিরাপত্তা বিধি মেনে শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ভারতকে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে অস্ট্রেলিয়া। এর ফলে ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ভারতের অগ্রযাত্রা আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহারও বাড়বে।
এই সফরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হল ‘অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়া ক্রিটিক্যাল মিনারেলস করিডর’ তৈরির উদ্যোগ। বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি, সেমিকন্ডাক্টর, নবীকরণযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং উচ্চ প্রযুক্তির শিল্পে ব্যবহৃত লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল, কপার, গ্রাফাইট ও বিরল মৃত্তিকা খনিজের (Rare Earth Elements) ক্ষেত্রে ভারতের আমদানির বড় অংশই বিদেশের উপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে চিনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এই করিডরের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া থেকে খনিজ সংগ্রহ, ভারতে প্রক্রিয়াকরণ এবং উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে সরবরাহ শৃঙ্খল আরও নিরাপদ ও বৈচিত্র্যময় হবে।
অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড সফরে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করা হয়েছে। সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)-কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, কৃষি প্রযুক্তি, শিক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও একাধিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কোয়াড (Quad)-এর সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত শিল্পায়ন, বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসারের জন্য ভারতের যে বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ খনিজের প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে এই সফরের চুক্তিগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি চিনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কৌশলকে আরও শক্তিশালী করবে।
Kolkata,West Bengal
Jul 13, 2026 10:13 PM IST
