প্রথম সারির এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে, পুণের এক সন্দেহভাজনের কাছ থেকে ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্নপত্রটি কিনে পরে ৫ লক্ষ টাকা লাভে বিক্রি করার অভিযোগে নাসিকের বাসিন্দা শুভম খৈরনারকে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) আটক করেছে। মহারাষ্ট্রের পর ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রটি হরিয়ানার গুরুগ্রাম, রাজস্থানের জয়পুর এবং প্রধান কোচিং কেন্দ্র সিকার-সহ জম্মু ও কাশ্মীর, বিহার এবং কেরলমের মতো বেশ কয়েকটি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে প্রার্থনার জন্য একটি মন্দিরে যাওয়ার পথে শুভমকে সিবিআই আটক করে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধরা পড়া এড়ানোর চেষ্টায় তিনি চুল কেটে নিজের চেহারায় পরিবর্তন এনেছিলেন। তবে, কর্মকর্তারা পুরনো ছবির সঙ্গে তার বর্তমান চেহারার তুলনা করে এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির তথ্য ব্যবহার করে তাকে শনাক্ত করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় অপরাধদমন শাখা (লোকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ) তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর তার বাবা মধুকার খৈরনার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে শুভমের কোনও সম্পর্ক ছিল না। তবে তিনি এও বলেছেন যে, তদন্তে যদি তার ছেলের নাম উঠে এসে থাকে, তাহলে সত্য উদঘাটনের জন্য একটি সুষ্ঠু ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া উচিত।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে, এই নথি ফাঁসের ঘটনায় পোর্টেবল স্ক্যানার, একটি জটিল টেলিগ্রাম নেটওয়ার্ক এবং শ্যাডো সার্ভার-সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুসারে, পরীক্ষার প্রায় ৪৫ ঘণ্টা আগেই প্রশ্নপত্রটি প্রচার করা হচ্ছিল। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে যখন কেরলমে থেকে পড়াশোনা করা আদতে রাজস্থানের সিকারের এক ছাত্র তার বাবাকে একটি ‘অনুমানমূলক প্রশ্নপত্রের’ পিডিএফ পাঠান বলে অভিযোগ ওঠে। তারা বাবা সিকারে একটি পেয়িং গেস্ট ব্যবস্থা চালান।
জানা গিয়েছে, পরীক্ষার দিন সকালে ওই ছাত্রের বাবা হস্টেলে থাকা মেয়েদের সাথে প্রশ্নপত্রটি ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তারা তত ক্ষণে নিজেদের কেন্দ্রে চলে গিয়েছিল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রশ্নপত্রটি রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের শিক্ষকদের দেখানো হয়, এবং অভিযোগ ওঠে যে তাঁরা দেখতে পান রসায়নের ১০৮টি প্রশ্নের মধ্যে ৪৫টি এবং জীববিজ্ঞানের ২০৪টি প্রশ্নের মধ্যে ৯০টি প্রশ্ন আসল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে গিয়েছে।
শিক্ষকরা প্রথমে একটি অভিযোগ দায়ের করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু দাবি উঠেছে যে সিকার পুলিশ তা নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করে। পরে তাঁরা এনটিএ-কে ইমেল করেন, যারা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-কে বিষয়টি জানায়। এরপর আইবি রাজস্থানের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি)-কে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেয়।
৮ মে, এসওজি সিকারে এমন কিছু ব্যক্তিকে শনাক্ত করে যারা জয়পুর থেকে প্রশ্নপত্রটি কিনেছিল এবং পরে সেই নেটওয়ার্কটির সূত্র ধরে হরিয়ানা ও নাসিক পর্যন্ত পৌঁছায়। রাজস্থানের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি) এই মামলায় এখন পর্যন্ত কথিত মূল পরিকল্পনাকারী মনীশ যাদব ও রাকেশ মান্ডওয়ারিয়া-সহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। সিকারের একটি পরামর্শ কেন্দ্রের সঙ্গে রাকেশ মান্দওয়ারিয়ার যোগসূত্র রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।