সংবাদ সংস্থা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রের খবর, মনীষা ওয়াঘমারে পুণের সুখসাগর নগরে একটি বিউটি পার্লার চালাতেন৷ অভিযোগ নিজের ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র টাকার বিনিময়ে সার্কুলেট করতেন৷
সিবিআইয়ের ধারণা, পরীক্ষাটি গত সপ্তাহে বাতিল হওয়ার আগে প্রশ্নফাঁস চক্র কীভাবে কাজ করত, তা বোঝার ক্ষেত্রে ওয়াঘমারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে৷
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অতীতে অনেক ছাত্রছাত্রী টিউশন শিক্ষক খুঁজে দেওয়ার জন্য ওয়াঘমারের সঙ্গে যোগাযোগ করত। ধীরে ধীরে তিনি ছাত্রছাত্রী ও বিভিন্ন নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। পরে ওয়াঘমারে জানতে পারেন যে মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে, যিনি NEET-UG ২০২৬-এর জন্য ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র প্রশ্নপ্রণয়ন প্যানেলের সদস্য ছিলেন, তাঁর কাছে চূড়ান্ত প্রশ্নপত্রের অ্যাক্সেস ছিল।
সিবিআইয়ের অভিযোগ, এরপর ওয়াঘমারে, মন্ধারে এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক P V Kulkarni মিলে এমন ছাত্রছাত্রীদের খুঁজতে শুরু করেন যারা টাকা দিয়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র কিনতে রাজি।
সিবিআই কী বলেছে?
তদন্তকারীদের দাবি, ওয়াঘমারে প্রতি ছাত্রের সঙ্গে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার চুক্তি করতেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি ডিল থেকে অভিযুক্তরা নিজেদের মধ্যে প্রায় ২.৫ থেকে ৩ লক্ষ টাকা ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
সিবিআই আদালতে জানিয়েছে, মন্ধারের কাছে NTA-র প্রশ্নপ্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তাঁর দায়িত্বের কারণে বোটানি ও জুলজি প্রশ্নপত্রের পূর্ণ অ্যাক্সেস ছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তিনি “বিপুল আর্থিক লাভের” বিনিময়ে নির্বাচিত ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিলেন।
পরিচিতির মাধ্যমে ছাত্র জোগাড় করতেন এই মনীষা৷ অধিকারিকদের মতে, ওয়াঘমারে তাঁর পরিচিতির মাধ্যমে চার থেকে পাঁচজন ছাত্রছাত্রীকে জোগাড় করেছিলেন।
পরে তিনি নাকি তাঁর পুরনো বন্ধু ধনঞ্জয নিভ্রূত্তি লোখান্ডে-কে পুরো পরিকল্পনার কথা জানান। এরপর লোকহান্ডে নাসিকের কাউন্সেলিং ব্যবসায়ী শুভম খাইরনার-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, লোকহান্ডে ওয়াঘমারের কাছ থেকে ফাঁস হওয়া NEET প্রশ্নপত্র পেয়ে তা খৈরনারের কাছে পাঠান। এরপর খৈরনার প্রশ্নপত্রের PDF ফাইল যশ যাদব নামে গুরুগ্রামের এক বাসিন্দার কাছে পাঠান এবং পরে তা জয়পুরের আরও কয়েকজনের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। যশ যাদবকেও এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
ওয়াঘমারেকে ১৪ মে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৬ মে থেকে তাঁকে ১০ দিনের সিবিআই হেফাজতে পাঠানো হয়। কুলকার্নিকেও তাঁর সঙ্গে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার দিল্লির একটি আদালত মন্ধারেকে ১৪ দিনের সিবিআই হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, তিনি প্রশ্নফাঁস চক্রের অন্যতম মূলচক্রী।
সিবিআই জানিয়েছে, তদন্ত এখনও “একেবারে প্রাথমিক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে” রয়েছে এবং সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের আরও বহু সদস্যকে এখনও শনাক্ত ও গ্রেফতার করা বাকি।