Last Updated:
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে হিংসা, গুলিবর্ষণ ও কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এক পিপিপি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিলাওয়াল ভুট্টো প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট চলাকালীন সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) এক কর্মী।ভোট চলাকালীন একাধিক কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা সামনে আসে কোটলি জেলার এলএ-৯ কোটলি-২ কেন্দ্র থেকে, যেখানে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (PPP) কর্মী মুখতার ইউনুস গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বলে অভিযোগ।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ প্রথমে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলার কথা ছিল। পরে মিরপুর বিভাগের কমিশনার রাজা তাহির মুমতাজ খান ভোটারদের সুবিধার জন্য ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করেন।
পিপিপি-র অভিযোগ, পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (PML-N)-এর প্রার্থী সরদার উমায়ের নঈমের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় মুখতার ইউনুস নিহত হন। দলটির দাবি, নির্বাচনের দিন প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয় দেখানোর ঘটনাই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, তাঁর দলের কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং এর জন্য সরাসরি পিএমএল-এন প্রার্থীকেই দায়ী করেন। তিনি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে, পিএমএল-এনও পাল্টা অভিযোগ করেছে যে বিরোধী দলের সমর্থকেরা ভোটগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করেছে। ভিম্বর জেলার একটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই এবং অন্য একটি ব্যালট বাক্সে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় প্রায় ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিবর্ষণের দৃশ্যও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হিংসার জেরে কোটলির তিনটি এবং ভিম্বরের দুটি ভোটকেন্দ্রে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখতে হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ভোট পুনরায় শুরু হয়। তবে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের ছবিতে ভোটারের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন বয়কটের ডাক এবং অশান্ত পরিবেশের প্রভাবেই ভোটদানের হার কমেছে।
Kolkata,West Bengal
