Last Updated:
Rainwater Harvesting: শান্তিপুর ব্লক ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে একটি নতুন ‘আরোগ্য মন্দির’ গড়ে তোলা হয়েছে। এই আরোগ্য মন্দিরের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা। শান্তিপুর একটি ‘সেমি ক্রিটিক্যাল’ ব্লক হওয়ায় এখানে ভূগর্ভস্থ জলস্তর ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় মওয়া হয়েছে কার্যকরী পদক্ষেপ।
শান্তিপুর, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: শান্তিপুর ব্লক ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে একটি নতুন ‘আরোগ্য মন্দির’ গড়ে তোলা হয়েছে। এতদিন ধরে যে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও টিকাকরণ কর্মসূচি ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হত, তা এখন থেকে এই নতুন সরকারি ভবনে স্থানান্তরিত হচ্ছে। শান্তিপুর ডেভেলপমেন্ট ব্লকের প্রকৌশলী দেবজ্যোতি দে জানান, এই আরোগ্য মন্দিরের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা ‘ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম’। শান্তিপুর ব্লক একটি ‘সেমি ক্রিটিক্যাল’ ব্লক হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে ভূগর্ভস্থ জলের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে জলস্তর ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
এই সমস্যা মোকাবিলায় ভবনের সমস্ত আউটলেটকে পাইপের সাহায্যে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে ছাদের এবং আশেপাশের সমস্ত বৃষ্টির জল অপচয় না হয়ে একটি নির্দিষ্ট ওয়াটার হারভেস্টিং ট্যাঙ্কে জমা হতে পারে। সাধারণত বৃষ্টির জল মাটির বিভিন্ন স্তর ভেদ করে ভূগর্ভে পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৪০ বছর সময় নেয়। কিন্তু এই প্রকল্পে সংগৃহীত বৃষ্টির জলকে পাইপের মাধ্যমে সরাসরি মাটির ১০০ মিটার গভীরে (যেখান থেকে পানীয় জল সংগ্রহ করা হয়) পাঠিয়ে ভূগর্ভস্থ জলস্তর রিচার্জ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিপূর্বে বাতনা ও লালমাঠেও এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শান্তিপুর ব্লক এই অভিনব জল সংরক্ষণ মডেলের মাধ্যমে জেলা তথা সমগ্র রাজ্যে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়। সরকারি এই উদ্যোগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সাধারণ মানুষও যেন নিজেদের বাড়িতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণে এগিয়ে আসেন, সেই আহ্বান জানিয়েছেন দেবজ্যোতি বাবু। উল্লেখ্য, জলসংকট মোকাবিলায় বাড়িতেই রেন ওয়াটার হারভেস্টিং তৈরির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাড়ির ছাদে পড়া বৃষ্টির জল পাইপের মাধ্যমে প্রথমে একটি ফিল্টার ইউনিটে পাঠাতে হবে। সেখানে পাতা, ধুলো ও ময়লা আলাদা হওয়ার পর জল সংরক্ষণ ট্যাঙ্কে রাখা বা রিচার্জ পিটের মাধ্যমে মাটির নিচে পাঠানো যায়। রিচার্জ পিট সাধারণত ইট, বালি, পাথর ও নুড়ি দিয়ে তৈরি হয়, যা ভূগর্ভস্থ জলস্তর বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার ও বর্ষার আগে ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ করলে দীর্ঘদিন কার্যকর থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগে যেমন জল সংরক্ষণ হবে, তেমনি ভবিষ্যতের জলসংকটও অনেকটাই কমানো সম্ভব।
Nadia,West Bengal