১৯ জুন অনুষ্ঠিত সংস্থার ৪৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM)-এ অনন্ত আম্বানি জানান, রিলায়্যান্সের ৪০ GWh বার্ষিক ক্ষমতাসম্পন্ন BESS ও সেল গিগাফ্যাক্টরির প্রথম পর্যায়ের কাজ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই তা চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনগুণ বাড়ছে গিগাফ্যাক্টরির উৎপাদন ক্ষমতা
অনন্ত আম্বানি বলেন, গিগাফ্যাক্টরির প্রথম পর্যায়ের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত যন্ত্রপাতি ইতিমধ্যেই প্রকল্পস্থলে পৌঁছে গিয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতিতে উৎসাহিত হয়ে রিলায়েন্স এখন বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৪০ GWh থেকে বাড়িয়ে ১২০ GWh করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে চালু হলে লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (LFP) ব্যাটারি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নির্মাতায় পরিণত হতে পারে রিলায়্যান্স। বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV) এবং অপ্রচলিত শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বর্তমানে LFP ব্যাটারির ব্যাপক ব্যবহার হয়।
রিলায়্যান্সের বৃহত্তর নবায়নযোগ্য শক্তি কৌশলের অংশ হিসেবেই এই সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য ভারতে বৃহৎ পরিসরে পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদন ও সংরক্ষণের অবকাঠামো গড়ে তোলা।
চালু হল সৌর পিভি উৎপাদন লাইন
ব্যাটারি প্রকল্পের পাশাপাশি সৌরশক্তি ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানিয়েছে রিলায়্যান্স। সংস্থা ঘোষণা করেছে যে তাদের সোলার ফটোভোল্টাইক (PV) সেল ও মডিউল উৎপাদন লাইন ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে এবং উৎপাদন শুরু করেছে।
সংস্থাটি ইতিমধ্যে প্রায় ১ গিগাওয়াট (GW) হেটারোজাংশন টেকনোলজি (HJT) ভিত্তিক সৌর মডিউল উৎপাদন করেছে। অনন্ত আম্বানির দাবি, প্রচলিত সৌর মডিউলের তুলনায় এই HJT মডিউল প্রায় ২ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম, ১৫ শতাংশ ভালো তাপমাত্রা সহনশীলতা প্রদান করে এবং ২৫ শতাংশ কম ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
বছরে ২০ GW সমন্বিত সৌর উৎপাদন ক্ষমতার লক্ষ্য
রিলায়েন্স আরও জানিয়েছে, HJT প্রযুক্তির জন্য তারা ALMM (Approved List of Models and Manufacturers) স্বীকৃতি পেয়েছে। উন্নত সৌর সেল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতি অর্জনকারী ভারতের প্রথম সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে রিলায়েন্স।
বর্তমানে পলিসিলিকন, ইনগট, ওয়েফার, সেল, মডিউল এবং সৌর কাচ—সম্পূর্ণ উৎপাদন শৃঙ্খল জুড়ে বছরে ২০ গিগাওয়াট সমন্বিত উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সংস্থাটি।
অনন্ত আম্বানি বলেন, এই উদ্যোগ দেশের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি শিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই প্রকল্প।