Last Updated:
Churni River Pollution: হাজার হাজার মানুষের জীবিকার উৎস নদিয়ার চূর্ণী নদী এখন বিষাক্ত রাসায়নিকের আঁতুরঘর। প্রতি বছর পাঁচ-ছয় বার ওপার বাংলা থেকে আসা শিল্পবর্জ্যের কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে মৎস্যজীবীরা। চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা এলাকাবাসী ও চূর্ণী বাঁচাও কমিটির দীর্ঘ আন্দোলনের পর এবার রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বিত পদক্ষেপের আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় বিধায়ক।
রানাঘাট, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: নদিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী চূর্ণী শুধু একটি নদী নয়, হাজার হাজার মানুষের জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনের অবলম্বন। মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে নদী সংলগ্ন বহু পরিবার স্নান, গৃহস্থালির কাজ ও অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য এই নদীর জলের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দূষণের জেরে চূর্ণীর অস্তিত্বই আজ প্রশ্নের মুখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের একটি কোম্পানির দূষিত রাসায়নিক বর্জ্য নদীতে মিশে যাওয়ায় চূর্ণীর জল কালো হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে নদীতে ব্যাপক হারে মাছ মারা যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। পাশাপাশি নদীর ধারে বসবাসকারী মানুষের অভিযোগ, রাতে নদী থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দূষিত জল ব্যবহারের ফলে অনেকের চর্মরোগ-সহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। একসময় বছরে মাত্র একবার দূষিত জল ছাড়া হলেও বর্তমানে বছরে পাঁচ-ছয় বার, এমনকি তারও বেশি বার এই ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
এদিকে রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক জানিয়েছেন, ১৯৯৭ সাল থেকে তিনি চূর্ণী নদীর দূষণ রোধে আন্দোলন ও বিভিন্ন মহলে দাবি জানিয়ে আসছেন। যদিও এতদিন উল্লেখযোগ্য ফল মেলেনি। তবে বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রে একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকায় তিনি আশাবাদী, দুই সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে বহুদিনের এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। এখন দেখার, চূর্ণীর দূষণ রোধে বাস্তবিকই কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং প্রাণ ফিরে পায় নদী ও নদীনির্ভর মানুষের জীবন।
Nadia,West Bengal
Jul 18, 2026 10:59 AM IST