Last Updated:
মাঝ আকাশে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত ভারতীয় বংশোদ্ভূত পাইলট স্মিত মাচ্ছরকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরে লড়াই শেখানোর প্রস্তাব দিলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আহত পাইলটকে আলিঙ্গন করে তাঁর মাথার সেলাই পরীক্ষা করেন প্রেসিডেন্ট। সাহসিকতার জন্য সম্মানিত করা হয়েছে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানকর্মীদের।
আহত পাইলটের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কথোপকথনের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরে লড়াই শেখানোর কথা বলতে শোনা যায় প্রেসিডেন্টকে। অন্য একটি ভিডিয়োয় আহত পাইলটকে আলিঙ্গন করে তাঁর মাথার সেলাই পরীক্ষা করতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজপরিবারের সরকারি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ওই অনুষ্ঠানের ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবরের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দুবাইয়ের শাসক শেখ মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম-সহ অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিমানে হামলার মুখে সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়ায় ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানকর্মীদের ‘First Class Order of Zayed II’ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
ভিডিয়োয় দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট আহত পাইলটকে জিজ্ঞাসা করছেন, তিনি কবে সুস্থ হয়ে উঠবেন। উত্তরে স্মিত জানান, তাঁর সুস্থ হতে দু’মাস সময় লাগবে। তখন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমার একটা পরিকল্পনা আছে। তুমি সুস্থ হয়ে উঠলে তোমার সঙ্গে একটা প্রশিক্ষণ পর্ব করতে চাই। তোমাকে লড়াই করতে শেখাব।” জবাবে হাসিমুখে স্মিত বলেন, “এটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় সম্মান।”
মাঝ আকাশে সহ-পাইলটের হামলা
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভ যাওয়ার পথে মাঝ আকাশে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে পড়ে। অভিযোগ, বিমানের সহ-পাইলট কুড়ুল দিয়ে স্মিতের উপর হামলা চালান। ইজ়রায়েলি আধিকারিকদের দাবি, অভিযুক্ত সহ-পাইলট ওমানের নাগরিক। হামলায় গুরুতর আহত হন স্মিত। সেই সময় বিমানটি ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এর ফলে বিমানকর্মী ও যাত্রীরা একজোট হয়ে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে কাবু করতে পারেন। পরে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রথমে সৌদি আরবের তাবুকের একটি হাসপাতালে স্মিতের চিকিৎসা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য তাঁকে আবু ধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমও। সেই সাক্ষাতের ছবিও সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি।
সম্প্রতি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিমানের কর্মীদের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট-সহ উপস্থিত অন্য নেতারা। আহত পাইলটের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের আন্তরিক কথোপকথনের ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পরেই তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
