৩০ বছর বয়সী সিন্টু জানান, তিনি ২০১৭ সালে সাপ উদ্ধার শুরু করেন। শুরুতে খুব কম মানুষই তাঁকে চিনত, কিন্তু ২০২২ সালের পর থেকে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তার সাপ উদ্ধারের ভিডিও পোস্ট করতে শুরু করেন। তার লক্ষ্য ছিল খ্যাতি অর্জন করা নয় বরং সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তিনি বলেন, সব সাপ বিষধর নয়, সব সাপ মানুষের ক্ষতিও করে না। কিন্তু সাপ এমন একটি প্রাণি, যাদের দেখলেই মানুষ ভয়ে মেরে ফেলে।
সিন্টু বলেন, মানুষকে না বুঝে সাপ মেরে ফেলেন, এটা দেখতে দেখতেই মনে হয়েছিল সাপ বাঁচানো প্রয়োজন। তাঁর বিশ্বাস, প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাপ না থাকলে ইঁদুর ও ব্যাঙের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, যা কৃষি ও পরিবেশ উভয়ের ওপরই প্রভাব ফেলবে। সিন্টু জানান, উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়েই শুরু হয় তাঁর সাপ উদ্ধার নিয়ে ভাবনা। উত্তরাখণ্ডের রামনগরে সাপ উদ্ধারের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তিনি রামপুর জেলায় কাজ শুরু করেন। তিনি রামপুরে এখনও পর্যন্ত ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ সাপ উদ্ধার করেছেন। তার মধ্যে ভারতের সবচেয়ে বিপজ্জনক সাপও রয়েছে।
সিন্টু জানান, রামপুরের তরাই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গোখরা পাওয়া যায়। ক্রেইট বা শাখামুঠে এবং রাসেলস ভাইপারের মতো বিষধর সাপও প্রচুর সংখ্যায় দেখা যায়। ক্রেইটকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয় কারণ এই সাপের বিষ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এলাকায় গোখরা এবং রাসেলস ভাইপারের উপদ্রব খুব। বর্ষা এলেই এদের আনাগোনা বেড়ে যায়, সেই সময় কাজক অনেক বেড়ে যায়।
বিষাক্ত সাপ সামনে দেখলে ভয় পান?
সিন্টু বলেন, ‘সবাই ভয় পায়, কিন্তু সতর্কতা এবং সঠিক কাজের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো যায়।’ এই যুবক ইতিমধ্যেই গোখরোর ছোবল খেয়েছেন। একটি সাপ উদ্ধারের সময় একবার একটি গোখরো সাপের বিষদাঁত দস্তানা ভেদ করে হাতে লেগে যায়। এছাড়াও বিষহীন সাপের ছোবল খেয়েছেন বহুবার, কিন্তু এই ঘটনাগুলো তার মনোবলকে দমাতে পারেনি।
মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন
সিন্টু বলেন, ‘এই কাজের জন্য কোনও নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নেই আমার। সরকারের কাছ থেকেও কোনও আর্থিক সহায়তা পাই না। তাই, যেখানে ডাক পড়ে সেখানে যাওয়ার জন্য শুধু পেট্রোলের খরচ নেন এবং তার বাকি সময় ও শ্রম বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও জননিরাপত্তায় উৎসর্গ করি।’ আজ, সিন্টু সোশ্যাল মিডিয়াতেও বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। ইনস্টাগ্রামে ৫৯,০০০, ফেসবুকে ২২,০০০ এবং ইউটিউবে প্রায় ১০,০০০ ফলোয়ার তাঁর। কিন্তু সিন্টুর আসল লক্ষ্য ফলোয়ার সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন করা। তাঁর পরামর্শ, সাপ দেখলেই মেরে ফেলবেন না। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন এবং একজন প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীকে জানান, কারণ যে প্রাণীটিকে মানুষ ভয় ও বিপদের চোখে দেখে, সেই প্রাণীটিই প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Snake: গোখরো, শাঁখামুঠের ছোবলেও ‘ডোন্ট কেয়ার’, তাঁর সামনে ঠান্ডা চরম বিষাক্ত সাপও, রামপুরের সিন্টু সাহসিকতার ‘অন্য’ নাম, জানুন কীর্তি