Last Updated:
Success Story: গৃহশিক্ষকের ঘরে জন্ম, নিজের মেধার জোরেই একাধিক অলিম্পিয়াডের বৃত্তি ও ১০০ শতাংশ স্কলারশিপ নিয়ে প্রস্তুতি চালিয়ে আজ দেশের প্রথম সারিতে পশ্চিম বর্ধমানের তন্নিষ্ঠা দাসগুপ্ত।
দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান: জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক বিরাট সাফল্য। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে নজরকাড়া ফলাফল পশ্চিম বর্ধমান জেলার ছাত্রীর। অণ্ডালের ট্রাফিক কলোনির বাসিন্দা তন্নিষ্ঠা দাসগুপ্ত। সম্প্রতি প্রকাশিত সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এ অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ২৬ অর্জন করেছেন তিনি। তন্নিষ্ঠার এই অভাবনীয় সাফল্যে খুশির হাওয়া বইছে গোটা শিল্পাঞ্চল জুড়ে। একই সঙ্গে মেয়ের এই সাফল্যে গর্বিত তাঁর অভিভাবক থেকে শুরু করে পরিবারের সকল সদস্যরা।
তবে তন্নিষ্ঠার এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে লড়াকু মধ্যবিত্ত পারিবারিক পটভূমি। তাঁর বাবা চন্দন দাসগুপ্ত পেশায় একজন গৃহশিক্ষক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞান পড়িয়ে আসছেন। স্বাভাবিকভাবেই, শিক্ষামূলক পরিবেশের মধ্যেই বড় হয়ে উঠেছেন তন্নিষ্ঠা। বাবা চন্দনবাবু জানান, মেয়ের পড়াশোনার জন্য তাঁকে কোনওদিন আলাদা করে বাড়তি খরচ করতে হয়নি। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী তন্নিষ্ঠা নিজের যোগ্যতায় একাধিক অলিম্পিয়াড পরীক্ষা থেকে বৃত্তি পেয়েছেন। যা তাঁর পড়াশোনার খরচে অনেকটাই সাহায্য করেছিল।
জানা গিয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষার জন্য বিগত দু-বছর ধরে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি নামী কোচিং ইনস্টিটিউটে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। ১০০ শতাংশ স্কলারশিপ নিয়ে প্রস্তুতি চালাচ্ছিলেন। প্রস্তুতির জন্য এই দীর্ঘ সময় তাঁকে থাকতে হয়েছে নিজের ঘরের বাইরে। এমনকি তাঁর ফিজিক্স বা পদার্থবিদ্যার প্রতি ভীতি কাটাতে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা তাঁর খুড়তুতো ভাই সৌম্যদীপ রায়। উল্লেখ্য, নবম শ্রেণি থেকেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির অ্যাডভান্স পড়াশোনা প্রায় শেষ করে ফেলেছিলেন এই ছাত্রী।
মেডিক্যাল প্রবেশিকার পাশাপাশি জয়েন্ট এন্ট্রান্স ১৬৫ র্যাঙ্ক করেছিলেন এই পড়ুয়া। তবে নিট পরীক্ষায় ২৬ র্যাঙ্ক করলেও তন্নিষ্ঠার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কিন্তু একটু অন্য। প্রথামাফিক ডাক্তারির চেনা ছক পেরিয়ে তিনি আসলে যেতে চান গবেষণার দুনিয়ায়। ছোটবেলা থেকেই ফিজিক্স এবং ম্যাথসের প্রতি গভীর টান থাকায়, বেঙ্গালুরুর বিখ্যাত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে গিয়ে উচ্চতর গবেষণা করা এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তন্নিষ্ঠা জানিয়েছেন, মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে প্র্যাকটিক্যাল নলেজের দিকে তাঁর ঝোঁক বেশি। মেয়ের এই ইচ্ছেকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তাঁর বাবা-মাও।
Durgapur,Barddhaman,West Bengal
