Last Updated:
Suvendu Adhikari: কারখানাটি চালু হলে সেখানে দৈনিক ১০ লক্ষ কেজি দই, লস্যি, শরবত এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি করা সম্ভব হবে। তৈরি হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ৷
কলকাতা: নির্বাচন পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি মতো বাংলায় বিনিয়োগ আনতে তৎপর বাংলার বিজেপি সরকার৷ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার দুই শিল্পোদ্যগীর সঙ্গে সারলেন বিশেষ বৈঠক৷ সরকারি ভাবে সরাসরি না হলেও ইতিমধ্যেই শোনা গিয়েছে বাংলায় ৬৫০ কোটি টাকার বিনিয়গ করতে চলেছে ‘আমূল’৷ এদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন আমূল-এর মানেজিং ডিরেক্টর জায়েন মেহতা৷ ছিলেন অমিত ব্যসও। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহে আমূল প্লান্ট-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা। আমূল যে ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ রাজ্যে করতে চলেছে, তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা বলেই সূত্রের খবর।
সাক্ষাৎ পর্ব শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, ‘‘আজ নবান্নে গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (GCMMF) এর সম্মানীয় ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী জয়েন মেহতা মহোদয় এবং কায়রা ডিস্ট্রিক্ট কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রডিউসার্স ইউনিয়ন তথা আমূল ডেয়ারির কর্ণধার শ্রী অমিত ব্যাস মহোদয়ের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করলাম।’’
মুখ্যমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করে জানান, ‘‘আগামীদিনে পশ্চিমবঙ্গে আমূলের মতো বৃহৎ, স্বনামধন্য সংস্থার বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দুগ্ধশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’’
বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে সংস্থার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং দুগ্ধ খাতের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ ও আমূলের পারস্পরিক সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আমি আশাবাদী।’’
জানা যাচ্ছে, হাওড়ার সালকিয়া ফুড পার্কে এই ডেইরি প্ল্যান্টটি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটিই হবে বাংলায় আমুলের প্রথম সম্পূর্ণ নিজস্ব মালিকানাধীন ডেইরি প্ল্যান্ট। এই মেগা প্রকল্পে সব মিলিয়ে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার বিপুল বিনিয়োগ করা হবে।
গুজরাতেরই একটি সংস্থা মোট দুটি দফায় এই বিশাল কারখানাটি নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করবে। এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গের বাজারে আমুল সবচেয়ে বড় দুগ্ধ বিক্রেতা সংস্থা। বর্তমানে রাজ্যে দৈনিক ১০ লক্ষ লিটার দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি হয় এই সংস্থার। নতুন এই প্ল্যান্টটি চালু হওয়ার পর আমুলের উৎপাদন ক্ষমতা সরাসরি দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, শনিবারই কলকাতা বিমানবন্দরে Larsen & Toubro (L&T)-র Chairman and Managing Director-এর সঙ্গে ৩০ মিনিটের ঝোড়ো বৈঠক সারেন৷ পরে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘‘কলকাতা বিমানবন্দরে S. N. Subrahmanyan মহাশয়ের সঙ্গে আমার একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক করার সুযোগ হয়েছিল। প্রায় ৩০ মিনিটের এই আলোচনায় আমরা পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের পুনর্জাগরণ নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করি। শিল্পোন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী পরিবেশ গড়ে তোলা, বৃহৎ বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে রাজ্যের যুবসমাজের জন্য অর্থবহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাবনা অপরিসীম। শিল্প জগতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা রাজ্যের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’’
