Last Updated:
TMC councillor Arrest: পুলিশ সূত্রের খবর, সৌরভ ঘোষের বিরুদ্ধে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং প্রতিবাদীদের ভয়ভীতি দেখানোর মতো একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ধরনের জুলুমবাজির অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে।
কলকাতা: এবার গ্রেফতার কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের অন্যতম বিতর্কিত কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত৷ ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে গ্রেফতার করা হল তোলাবাজির সহ একাধিক মামলায়৷ রাতেই তাঁকে নিয়ে আসা হয় পাটুলি থানায়৷ থানার বাইরে ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান৷ পাশাপাশি, ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের যুব সভাপতি ‘এলাকার ত্রাস’ সৌরভ ঘোষকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করে পাটুলি থানার পুলিশ।
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তর ঘনিষ্ঠ সৌরভ ঘোষ। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এরা লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা তুলতো দোকান পিছু। ভয়ে ব্যবসা করতে পারতেন না স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, পাটুলি ঝিলপাড়ে পাশে যে দোকান নির্মাণ হয়েছে সেই দোকান পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা তোলার দাবি করেছিল বাপ্পাদিত্য এবং এই সৌরভ ঘোষ। তোলা না দেওয়ায় দোকান দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসীরা।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকে প্রয়াত বিজেপি নেতা তপন শিকদারের অনুগামী হিসাবে পরিচিত ছিলেন বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। তবে ২০০৬ সালের পর থেকে বেহালার তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাড়ে ঘনিষ্ঠতা। তাঁকেই রাজনৈতিক ‘গুরু’ মানেন বলে একসময় জানিয়েছিলেন বাপ্পাদিত্য৷ ২০১৫ সালে পুরভোটে টিকিট পান পাটুলির বাসিন্দা বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পরে একাধিকবার বাপ্পাদিত্যর নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তর বাড়িতে তল্লাশিও চালিয়েছিল সিবিআই।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং ভোট-পরবর্তী হিংসা-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল যুব নেতা সৌরভ ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা বাপ্পাদিত্যর নাম পাওয়ার গিয়েছে বলে জানা গেছে।
এই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার রাতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পাটুলি থানার পুলিশ। থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে সামিল হন। পুলিশের গাড়ি থেকে কাউন্সিলর নামতেই তাঁকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান ওঠে। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তা দিয়ে থানার ভেতরে নিয়ে যায়। পরে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি। কাটমানি, তোলাবাজি ও অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর আগে শনিবার তৃণমূল যুব নেতা সৌরভ ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কলকাতার পাটুলি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলছিলেন এবং স্থানীয়দের একাংশের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছিলেন।
Jun 07, 2026 12:20 AM IST
