Last Updated:
Trump Iran Deal: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়তে পারে, শান্তিচুক্তি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। হরমুজ প্রণালী খুলতে পারে, ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত ট্রাম্পের।
ওয়াশিংটন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যে সাময়িক স্বস্তির আশা তৈরি হয়েছে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও বড় মতপার্থক্য রয়ে গিয়েছে। ফলে স্থায়ী শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের বন্দরগুলির উপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা জাহাজগুলি ধীরে ধীরে নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিতে পারবে। ট্রাম্প লেখেন, “আমাদের অভূতপূর্ব নৌ অবরোধের কারণে যে জাহাজগুলি হরমুজ প্রণালীতে আটকে ছিল, তারা এবার ঘরে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করেন, তাহলে তা পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা, তেল বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বর্তমানে যে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের উপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার বিষয় রয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। বিশ্বের সমুদ্রপথে হওয়া মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে এই পথ পুরোপুরি খুলে গেলে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমবে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বেড়ে যাওয়া অপরিশোধিত তেলের দামও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
চুক্তি কার্যকর হলে ইরানের উপর থেকে আংশিক নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হতে পারে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরান চুক্তির শর্ত মানলে ধাপে ধাপে ইরানকে সীমিত পরিমাণে তেল রফতানির অনুমতি দিতে পারে আমেরিকা। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কিছু ইরানি সম্পদও মুক্ত করা হতে পারে। এর ফলে বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকা ইরানের অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
এছাড়াও এই চুক্তির মাধ্যমে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার দরজাও খুলতে পারে। বর্তমানে আলোচনা মূলত যুদ্ধবিরতি ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ঘিরে হলেও, আগামী ধাপে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং পরমাণু নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে পশ্চিম এশিয়ায় তাৎক্ষণিক সামরিক উত্তেজনা কমতে পারে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হতে পারে। তবে আপাতত এই উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী সমাধানের চেয়ে নতুন সংঘাত এড়ানোর কৌশল হিসেবেই বেশি দেখা হচ্ছে।
Kolkata,West Bengal
