Last Updated:
Trump-Netanyahu: চিড় ধরেছে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সম্পর্কে? সাম্প্রতিক একটি ফোনকল খানিক তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছে৷ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ওই ফোনে নাকি নেতানিয়াহুর উপর রীতিমতো ক্ষেপে ওঠেন ট্রাম্প৷
ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার হোয়্যাইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন যে কয়েকজন রাষ্ট্রনেতা, তার মধ্যে একজন নি:সন্দেহে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু৷ ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল সংঘাতে জড়ানোর পর প্রকাশ্যেই নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ট্রাম্প৷ ইরানের উপর যৌথভাবে হামলা চালায় ইসরায়েল-আমেরিকা৷ কিন্তু এমন ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে কি সম্প্রতি চিড় ধরেছে? প্রায় ভাঙবার পথে? ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সম্পর্ক বর্তমানে বিশ্বের রাজনৈতিক মহলের চর্চার কেন্দ্রে, সৌজন্যে একটি ফোনকল৷ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ওই ফোনে নাকি নেতানিয়াহুর উপর রীতিমতো ক্ষেপে ওঠেন ট্রাম্প৷
নিজেকে আধুনিক আমেরিকার অন্যতম ‘সবচেয়ে ইসরায়েলপন্থী’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু গত দুই মাসে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনা, বিশেষ করে চলতি সপ্তাহে লেবাননকে ঘিরে হওয়া একটি বিস্ফোরক ফোনালাপ, ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই সম্পর্ক হয়তো আর ঠিক আগের মতো নেই৷
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ জুন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কারণ, ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ এবং বৈরুতে হামলার হুমকি দিয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেন যে এ ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং ইসরায়েলকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে।
ফোনালাপ সম্পর্কে অবহিত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, “তুমি পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছ। আমি না থাকলে তুমি জেলে থাকতে। আমি তোমাকে বাঁচাচ্ছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এই ঘটনার জন্য সবাই ইসরায়েলকেও ঘৃণা করছে।” আরেকটি সূত্র জানায়, ট্রাম্প এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে এক পর্যায়ে চিৎকার করে বলেন, “তুমি আসলে কী করছ?” শুধু ব্যবহৃত ভাষাই নয়, এই কথোপকথন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে—ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর সম্ভবত এই প্রথম ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার এবং নেতানিয়াহুর সামরিক কৌশলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত দেখা দিল।
তবে অ্যাক্সিওসের দাবি, কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। ২০ মে সম্ভাব্য ইরান-চুক্তি নিয়ে হওয়া এক ফোনালাপও নাকি বেশ কঠিন পরিবেশে হয়েছিল। একটি সূত্র জানিয়েছিল, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার পথে ট্রাম্পের আগ্রহ দেখে নেতানিয়াহু অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। মতপার্থক্যটি এখন স্পষ্ট, নেতানিয়াহু ইরানকে মূলত সামরিক হুমকি হিসেবে দেখেন এবং চাপ বজায় রাখার পক্ষে। অন্যদিকে ট্রাম্প ক্রমশ যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্যকে কূটনৈতিক সমঝোতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প আশঙ্কা করছিলেন যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসন বাড়লে আমেরিকা-ইরান আলোচনাও ভেস্তে যেতে পারে। তেহরান নাকি আগেই সতর্ক করেছিল যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলা আলোচনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটি প্রথমবার নয় যে ট্রাম্প লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এপ্রিল মাসে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে কেবল “নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক” অভিযান চালাতে এবং বৃহত্তর যুদ্ধ এড়িয়ে যেতে বলেছিলেন। তখন ওয়াশিংটন একদিকে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করছিল, অন্যদিকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু করার উদ্যোগ নিচ্ছিল।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন এপ্রিল মাসে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে এবং উভয় পক্ষকে সরাসরি আলোচনায় বসতে উৎসাহিত করে। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ। ট্রাম্পের কাছে এখন লেবানন আর আলাদা কোনো সংঘাত নয়। বরং এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
Kolkata,West Bengal
