Last Updated:
সুপ্রিম কোর্টে-এর নির্দেশের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ত্বিশা শর্মার মৃত্যু মামলায় তাঁর স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ২০২৩-এর একাধিক ধারা এবং পণনিষেধ আইন, ১৯৬১-এর ৩ ও ৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ত্বিশা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। চলতি মাসের শুরুতে ভোপালের শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনক অবস্থায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল ত্বিশা শর্মা-কে।
দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ত্বিশা শর্মার স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ২০২৩-এর ৮০(২), ৮৫ এবং ৩(৫) ধারায়, পাশাপাশি Dowry Prohibition Act, 1961-এর ৩ ও ৪ ধারায় মামলা রুজু করেছে।
এর আগে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইকে দ্রুত তদন্তভার গ্রহণ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
প্রসঙ্গত, ৩৩ বছর বয়সি ত্বিশা শর্মা, যিনি নয়ডার প্রাক্তন মডেল-অভিনেত্রী ছিলেন, তাঁকে গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভোপালের বাসিন্দা সমর্থ সিংয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। একটি অনলাইন ম্যাট্রিমোনিয়াল প্ল্যাটফর্মে পরিচয়ের এক বছর পর তাঁদের বিয়ে হয়। মৃত্যুর পর ত্বিশার পরিবারের অভিযোগ তোলে যে পণের জন্য তাঁকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হত।
এদিকে গিরিবালা সিং আগাম জামিন পেলেও সমর্থ সিং এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পুলিশের চোখ এড়িয়ে ছিলেন। পরে ২২ মে জবলপুরের একটি থানায় আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
অন্যদিকেমধ্য প্রদেশ হাইকোর্ট গিরিবালা সিংকে দেওয়া আগাম জামিন চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি ২৭ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছে। প্রতিরক্ষা পক্ষ জবাব জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। শুনানির সময় গিরিবালার আইনজীবী জর্জ কার্লো জানান, ত্বিশার বাবা নবনিধি শর্মার করা আবেদনের কপি এখনও তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি।
এআইআইএমএস দিল্লির ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সুধীর গুপ্ত জানান, হিস্টোপ্যাথোলজি ও ভিসেরা পরীক্ষাসহ কয়েকটি ল্যাব টেস্ট বাকি থাকায় রিপোর্ট তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগবে।
ত্বিশার পরিবার তাঁর মৃত্যু নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ, ত্বিশার বাঁ হাত ও বাহুতে আঘাতের চিহ্ন ছিল। আঘাতের গভীরতা ও সময় নির্ধারণে বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়নি। এমনকি ঘাড় ও সার্ভাইক্যাল অংশের রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষাও করা হয়নি বলে দাবি পরিবারের। এছাড়া গলায় পাওয়া দাগের সঙ্গে ব্যবহৃত দড়ি বা বস্তুটির মিল রয়েছে কি না এবং সংরক্ষিত ভিসেরা নমুনার টক্সিকোলজিক্যাল পরীক্ষার দাবিও জানানো হয়েছে।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
