সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে পোস্ট করে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, “আজ সকালে মস্কো অঞ্চলে হওয়া ড্রোন হামলায় এক ভারতীয় শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও তিন জন আহত হয়েছেন। দূতাবাসের আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেছেন।”
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হচ্ছে এবং আহত শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সংস্থার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
রাশিয়ার দাবি, রাতভর ইউক্রেনের প্রায় ৬০০টি ড্রোন হামলার মুখে পড়েছিল দেশটি। এই হামলায় অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার লাগাতার আক্রমণের ‘যথাযথ জবাব’ বলে উল্লেখ করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত এক বছরে মস্কোয় এত বড় ড্রোন হামলার ঘটনা আর ঘটেনি বলেই দাবি রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা ‘তাস’-এর। মনে করা হচ্ছে, সপ্তাহের শুরুতে ইউক্রেনের রাজধানী কিভে-এ রাশিয়ার ভয়াবহ হামলার জবাব দিতেই এই পাল্টা আঘাত হেনেছে ইউক্রেন। কিভে সেই হামলায় অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি ইউক্রেনের। আহত হয়েছিলেন বহু মানুষও।
শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত চলতে থাকে ব্যাপক ড্রোন হামলা। মস্কো-এর উত্তর-পশ্চিমে খিমকি এলাকায় একটি ড্রোন সরাসরি একটি আবাসনে আছড়ে পড়লে এক মহিলার মৃত্যু হয়। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবায়ানিন জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও একজন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মস্কোর উত্তর-পূর্বে মিতিশ্চি এলাকায় একটি বহুতলের উপর ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ভেঙে পড়ায় মৃত্যু হয়েছে আরও দুই জনের। সব মিলিয়ে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মেয়র। আহতদের মধ্যে একটি তেল শোধনাগারে কর্মরত শ্রমিকরাও রয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, রাতভর অভিযানে তারা ৫৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। শুধু মস্কোর দিকেই ধেয়ে আসা ১২০টির বেশি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সের্গেই সোবায়ানিন।
ড্রোনের জ্বলন্ত টুকরো পড়ে সুবোতিনো গ্রামের একটি বাড়িতে আগুন লেগে যায়। এছাড়া ইস্ত্রা শহরের একাধিক আবাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে চার জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার ব্যস্ততম বিমানবন্দর শেরেমেটিভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের-এর ভেতরেও ড্রোনের টুকরো পড়ে। যদিও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রুশ সরকারি সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রামে যে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে আগুনে জ্বলছে একাধিক বাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বহুতল। যদিও নিরাপত্তার কারণে সুনির্দিষ্ট জায়গার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, একই রাতে রাশিয়াও তাদের দিকে ২৮৭টি ড্রোন ছুড়েছিল। এতে রাশিয়ার বেশ কিছু এলাকার অন্তত নয় জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার পাঠানো অধিকাংশ ড্রোনই তারা আকাশে ধ্বংস করেছে।
উল্লেখ্য, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই রাশিয়ায় ‘বিজয় দিবস’ উদযাপন আগের বছরের তুলনায় অনেক ছোট পরিসরে করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিশেষ করে তেল শোধনাগারগুলিকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার জেরেই এই সতর্ক অবস্থান নেয় মস্কো।
রবিবার সকালের হামলার মধ্যেই ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর প্রধান টেলিগ্রামে মস্কোর অভিজাত এলাকা ‘পাত্রিয়ার্চি’-র বাসিন্দাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন। তিনি লেখেন, “এতদিন যেভাবে শান্তিতে ছিলেন, সেই সময় এবার শেষ হতে চলেছে।”