Last Updated:
১৯৮০ সালে উত্তম কুমারের আকস্মিক প্রয়াণের পর গৌরী দেবী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং স্বামীর মৃত্যুর এক বছর পর, ১৯৮১ সালের ২১ এপ্রিল তাঁরও মৃত্যু হয়।
কলকাতা: বাংলা সিনেমার চিরকালীন হিট জুটি উত্তম-সুচিত্রা৷ বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সেরা রোম্যান্টিক জুটি হিসেবে তাঁদের মেনে নিয়েছিলেন দর্শক৷ তাঁরা একসঙ্গে মোট ২৯টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যার বেশিরভাগই কালজয়ী ব্লকব্লাস্টার। উত্তম কুমার হলেন বাংলার সর্বকালীন মহানায়ক এবং সুচিত্রা সেন হলেন মহানায়িকা৷ তাঁদের চলে যাওয়ার পরও এই খেতাব আর কাউকে দেয়নি দর্শক৷ উত্তম কুমার তাঁর জীবনের শেষদিন পর্যন্ত ছবিতে অভিনয় করেছেন৷ অন্যদিকে সুচিত্রা সেন ফিল্ম কেরিয়ার ছেড়ে দীর্ঘদিন স্বেচ্ছাবসর নিয়েছিলেন৷ শেষ বয়সে তাঁকে কেমন দেখতে হয়েছিল, তা জানেন না বাঙালি দর্শক৷ এটাই চেয়েছিলেন মহানায়িকা৷ কারণ তিনি বাংলার দর্শকদের কাছে যৌবনের সুচিত্রা হয়েই থাকতে চেয়েছিলেন, তাই এমন সিদ্ধান্ত৷
সুচিত্রা-উত্তমের সিনেমা মানেই সুপারহিট৷ সেকথা জানতেন পরিচালক-প্রযোজকরা৷ ফলে এই দুই তারকাকে নিয়ে একের পর এক ছবির বাজি রাখতেন তাঁরা৷ এবং সত্যিই বড়পর্দায় জাদু তৈরি করতেন উত্তম-সুচিত্র জুটি৷ দর্শক তো বটেই এই দুই বাড়ির লোকজনও জানতেন এই জুটির সাফল্যের কথা৷ উত্তম কুমারের স্ত্রী গৌরী দেবীও স্বামীর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের অনস্ক্রিন রসায়ন মেনে নিয়েছিলেন৷ স্বামীকে খুবই ভালবাসতেন গৌরী দেবী৷ স্বামীর মঙ্গলকামনা করতেন চিরকাল৷ স্বামীর জন্য যেটা ভাল, তারই গুরুত্ব দিতেন তিনি৷
অন্যদিকে সুচিত্র সেনের সঙ্গেও তাঁর ছিল মধুর সম্পর্ক৷ উত্তম কুমারের বাড়ির লক্ষ্মীপুজোতে নিয়ম করে যেতেন মহানায়িকা৷ তাছাড়াও উত্তম কুমারের বাড়ির নানা অনুষ্ঠানে আসতেন সুচিত্রা সেন৷ উত্তম-গৌরী পুত্র গৌতমের বিয়েতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল এবং গৌরী দেবীকে সস্নেহে আলিঙ্গনও করেন পর্দায় রিনা ব্রাউন৷
সুচিত্রা সেনকে সেই সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছিলেন উত্তম পত্নী৷ উত্তম কুমারের মৃত্যু বার্ষিকীতে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নাতনি নবমিতা৷ তাঁর কথা থেকে জানা গিয়েছে যে, উত্তম কুমারের দেহ রাখা ছিল তাঁদের ঠাকুর ঘরের সামনে৷ প্রচুর মানুষ এসেছিলেন শেষবারের মতো মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে৷ গভীর রাতে শেষবারের মতো উত্তমকে দেখতে এসেছিলেন রমা অর্থাৎ সুচিত্রা সেন৷ এই রমা নামেই তাঁকে ডাকত তাঁর কাছের মানুষরা৷ উত্তম কুমারও তাঁকে এই নামেই ডাকতেন৷ সুচিত্রা সেন একটি সাদা মালা নিয়ে এসেছিলেন৷ তাঁকে দেখেই সঙ্গে সঙ্গে ডেকে পাঠান গৌরী দেবী৷
কারণ তিনি চেয়েছিলেন সুচিত্রা সেনেই উত্তমের মরদেহে প্রথম মালা পারান৷ কারণ তিনি বলতেন যে যিনি উত্তম কুমারের গলায় সবথেকে বেশি মালা পরিয়েছেন, মৃতদেহে তিনিই প্রথম মালা পরিয়ে সেই সম্মান দিক৷ এমনকী চট্টোপাধ্যায় পরিবারের (উত্তম কুমারের আসল নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়) কেউ সুচিত্রার আগে উত্তম কুমারের দেহে মালা পরিয়ে শ্রদ্ধা দিতে পারেননি৷ ফলে সুচিত্রা-উত্তমের অনস্ক্রিন প্রেম নিয়ে কোনও সমস্যা ছিল না উত্তম কুমারের স্ত্রী৷ উল্টে তিনি শ্রদ্ধাই করতেন তাঁর স্বামীর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের সম্পর্ক৷
স্বামীর মৃত্যুর পর মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন গৌরী দেবী৷ উত্তম কুমারের মৃত্যুর বছরখানেক পর তাঁরও মৃত্যু হয়৷
Kolkata,West Bengal
