Last Updated:
Vladimir Putin: রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ও সহযোগিতা কমানোর জন্য ওয়াশিংটনের বারবার চাপের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরোক্ষভাবে কড়া বার্তা দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের লেনদেন কমানোর ক্রমাগত চাপের মাঝেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া বার্তা দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন৷ ভারত কখনও বিদেশি শক্তির দ্বারা পরিচালিত হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না, সাফ জানিয়ে দিলেন পুতিন৷
সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরাম (SPIEF)-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন বলেন, কোনও দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। পুতিনের কথায়, “ভারত কখনও বিদেশ থেকে আসা কোনও নির্দেশ বা চাপের কাছে মাথা নত করেনি। একই কথা গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে কখনও প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় না।”
রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রক পুতিনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, “রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আমেরিকা ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এতদিনে সকলের বোঝা উচিত, ১৫০ কোটিরও বেশি মানুষের দেশের নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চাপ দিয়ে সিদ্ধান্ত বদলানো সম্ভব নয়। এই প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ারই কথা।” এর একদিন আগেও পুতিন মন্তব্য করেছিলেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে নয়াদিল্লির উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা “নিষ্ফল”।
রুশ প্রেসিডেন্টের দাবি, ভারত রাশিয়ার একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার এবং পশ্চিমা দেশগুলির চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। বরাবরই ভারত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে থেকেছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের উপর জোর দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার বিষয়টি নিয়ে ভারতের উপর চাপ তৈরি করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ভারতের এই তেল ক্রয় রাশিয়ার ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের অর্থ জোগাতে সাহায্য করছে।
এর জেরে আমেরিকা ভারতের উপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছিল। যদিও চলতি বছরে সেই হার কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পুতিনের মন্তব্যকে ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক নীতির প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
Kolkata,West Bengal
