পরিবর্তিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী।
সোমবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত ওয়েলফেয়ার বোর্ডের মাধ্যমে গিগ কর্মীদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি তাঁদের কাজের পরিবেশ আরও উন্নত করতে বিনামূল্যে পানীয় জল ও মোবাইল চার্জিংয়ের সুবিধা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সুরক্ষার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আয়ুষ্মান ভারত কার্ড প্রদান করা হবে। একইসঙ্গে তাঁদের ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান রেশন কার্ড’ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে, যাতে দেশের যে কোনও প্রান্তে থেকে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে পারেন।
এছাড়াও, রাজ্যের অভিবাসী-প্রবণ এলাকাগুলিতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
রাজ্য সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে গিগ কর্মী এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা আরও জোরদার করবে এবং তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
সোমবারের রাজ্য বাজেটে একের পর এক চমক দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বিধায়ক তহবিলের পরিমাণ ৭০ লক্ষ টাকা বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা ঘোষণা করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, এতদিন যাবত বিধায়কদের তহবিলে ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ ছিল। এবার থেকে তা ১ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হল।
একইসঙ্গে তিনি মহার্ঘ ভাতার ক্ষেত্রে ১৮% দেওয়ার কথা জানান। সরকারি, আধা সরকারি সহ শিক্ষক ও অ-শিক্ষককর্মীদের এবার মোট ৩৮% মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে।
একইসঙ্গে তিনি এই দিনের বাজেটে, সরকারি অফিসে ১ লক্ষ শূন্যপদ নিয়োগের কথা জানান। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট ৩৩% মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে অর্থমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, ‘‘আমরা পুরোপুরি ভাবে মানুষ যাতে রোজগার করতে পারে, শিল্প যেমন বাড়তে পারে, সামনের দিনে আমাদের লক্ষ্য হবে পশ্চিমবঙ্গকে একটা আধুনিক প্রোগ্রেসিভ অর্থনৈতিক ভাবে তৈরি করা যায়, সেটাই দেখতে হবে।’’ ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা, এক লক্ষ শূন্যপদ পূরণ! মহিলাদের নিয়েও বড় ঘোষণা বাজেটে। বাজেট প্রত্যাশার পারা চড়ছে সাধারণ মানুষেরও। একাধিক জনদরদী প্রকল্পের পাশাপাশি, মহার্ঘ্যভাতা, শিক্ষায় নবীকরণ, শিল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধিতে নতুন কর্মসংস্থান সব নিয়েই উৎসাহ তুঙ্গে। বাকি সবের পাশাপাশি এবার বাজেটের লক্ষ্য ছিল সরকারি চাকরিও৷
প্রসঙ্গত, দুপুর ১২টায় বাজেট পাঠ শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে বিধানসভায় বসে বাজেট অধিবেশন। যোগ দেন সব দলের বিধায়করা। কাঁথির শান্তিকুঞ্জ থেকে সোমবার সকাল ১০ টাকা নাগাদ কলকাতার দিকে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরাসরি বিধানসভায় আসেন তিনি। সেখানে বাজেট অধিবেশনে যোগদান করেন মুখ্যমন্ত্রী।
কর্মসংস্থানমুখী বাজেট এবার। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা সরকারি কর্মী নিয়োগের ঘোষণাও বাজেটে উঠে আসে। বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পরে এ বারের বাজেটে কি সুখবর আসতে চলেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য? বাজেটে DA বৃদ্ধির ঘোষণা নিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা। তৃণমূল আমলে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে শিক্ষা এবং পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের ছাপ এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি রাজ্যের প্রশাসনিক পরিসর থেকে। সেই পরিস্থিতি বদলাতে এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলিকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।