ইউনিফর্ম সিভিল কোড রাজ্যে কার্যকর করা প্রথম রাজ্য উত্তরাখণ্ড। তারপরে অসম, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাতের মতো একাধিক রাজ্য অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর প্রস্তাবকে কার্যকর করেছে৷ অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মতো বাংলাতেও এবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হবে৷
ইউনিফর্ম সিভিল কোডের লক্ষ্য হলো ধর্ম নির্বিশেষে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, সম্পত্তির বণ্টন ও দত্তক গ্রহণের মতো দেওয়ানি বিষয়গুলির জন্য একটি অভিন্ন আইন প্রণয়ন করা। সমর্থকদের মতে, একটি একক আইন সবার জন্য আইনের দৃষ্টিতে সমতা নিশ্চিত করবে এবং ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনের কারণে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করবে।
বিজেপি নেতাদের দাবি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কাঠামোয় নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
* সব সম্প্রদায়ের জন্য বিবাহের ন্যূনতম বৈধ বয়স এক রাখা।
* আইনি স্বীকৃতি ও নথিভুক্তি নিশ্চিত করতে সব বিবাহের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন।
* বহুবিবাহের মতো প্রথা নিষিদ্ধ করা।
* নারীদের জন্য সমান সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার অধিকার নিশ্চিত করা।
* ধর্ম নির্বিশেষে সমান আইনি সুরক্ষা প্রদান।
* লিভ-ইন সম্পর্কের শুরু ও সমাপ্তি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করা।
* এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি জবাবদিহি ও নথিভুক্তি নিশ্চিত করা।
* বিবাহবিচ্ছেদের জন্য একক আইনি ভিত্তি ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ।
* ধর্মীয় বা প্রথাগত বিচ্ছেদ পদ্ধতির পরিবর্তে অভিন্ন আইন কার্যকর করা।
* উভয় পক্ষের জন্য সমান আইনি প্রতিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
দলীয় নেতাদের মতে, মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরের কিছু অংশের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে এই বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব থাকতে পারে।
দলীয় সূত্রের দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশের নারী ইউসিসি প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাঁদের মতে এটি বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনি অধিকারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।
বিজেপির কাছে ইউনিফর্ম সিভিল কোড দীর্ঘদিনের একটি আদর্শগত ও নীতিগত অঙ্গীকার। যদি এই আইন কার্যকর হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কার হিসেবে এটি বিবেচিত হতে পারে।
এই প্রস্তাবকে ঘিরে বিস্তৃত রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। সমর্থকদের মতে, এটি আইনের অভিন্নতা ও লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অন্যদিকে সমালোচকেরা ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইন ও সাংস্কৃতিক প্রথার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারেন।