UCC অথবা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ এদিন বলেন, ‘‘UCC নিয়ে আমাদের বক্তব্য আগে ছিল। এটা সিরিয়াসলি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। বিলের ড্রাফ্ট ও শব্দ প্রয়োগ এখনও আসেনি। সেটা দেখতে হবে।’’
তাঁর মতে, ‘‘বাকি যে দুই অত্যন্ত বিপদজনক। বিচারের আগেই অপরাধী বানানো সংবিধানের পরিপন্থী। এসপির অনুমানের রিপোর্টের ভিত্তিতে সটান জেলে পাঠানো হবে। উকিল দিতে পারবেন না। আটকের সময়সীমা অনেক হতে পারে। এটা রাজনৈতিক ভাবে টার্গেট করলে তাতে প্রয়োগ হতে পারে। এটা কালা কানুন। এর বিরোধিতা হবে।’’
সামনেই আসছে ২১ জুলাই৷ গত ১৫ বছর এই দিনটি উৎসবের মতো পালন করে আসে তৃণমূল৷ এবার শাসক নয়, বিরোধী আসনে তৃণমূল৷ আর সেই তৃণমূলে ধরেছে আড়াআড়ি ফাটল৷ তাহলে কী হবে ২১ জুলাই, শহিদ দিবস পালন হলেও, তা পালন করবে কোন তৃণমূল? নব্য নাকি আদি?
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘
২১শে জুলাই বিশেষ দিন। প্রত্যেক বছর পালন করা হয়। এবারেও হবে। ধর্মতলায় হবে। আইন মাফিক হবে। সাম্প্রতিক অতীতে যোগাসনের জন্যে সাত দিন রেড রোড বন্ধ থাকে। তাই শহিদ তর্পণ ব্যতিক্রমী দিন হিসাবে ধর্মতলায় পালন করতে দেওয়া উচিত। ২১ জুলাই নিয়ে বিপুল সাড়া আছে। মানুষ বলছেন তারা বেইমান নয়। জেদের কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন।’’
কুণালের কথায়, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে কয়েকজন ব্যক্তি স্বার্থে গেছে। নয়না বন্দোপাধ্যায়কে আমি আমন্ত্রণ করেছিলাম। মমতা বন্দোপাধ্যায় অভিভাবকের মতো দেখছেন। আমরা বেইমান নই পোস্টারে রেখেছি। যারা গদ্দারি করছেন তারা বেইমান। কয়েকজন কুনকি হাতির রোল পালন করছেন।’’
তারাতলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দল ছেড়েছেন বিশ্বরূপ দে৷ বলেছেন, ‘‘মনটা আজ সত্যি ভারাক্রান্ত। একটার পর একটা ঘটনায় যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং জোড়াফুল জড়িয়ে পড়ছে তা চোখে দেখা যায় না, বিশ্বাস করা কঠিন। তারতলায় গত প্রায় ৪৮ ঘণ্টায় যা ঘটল তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বললে কম বলা হবে, নিন্দনীয়। আমি যে দলের…তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেছি কলকাতা পুরসভায়, সেই দলের গাফিলতিতে…বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে তৎকালীন মহানাগরিক স্বাক্ষর করেছেন যে প্ল্যান, অর্থাৎ নকশা মঞ্জুর হয়েছে, তা ত্রুটিপূর্ণ এবং যার ফলে এতগুলো নিরীহ মানুষ প্রাণ হারালেন। এ ব্যথা সহ্য করা যায় না। আমি তাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি যে তৃণমূল কংগ্রেস আর করা যাবে না। আর করবও না।”
তবে দলত্যাগের আগে নিউটাউনের পাঁচতারা হোটেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ডাকা বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন৷ তারপরেই তারাতলার ঘটনা৷
তখনই দলত্যাগী প্রাক্তন কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে সম্পর্কে বলেন, ‘‘বিশ্বরূপ দে ওদিকে গিয়েছিলেন, আবার কাল আমাদের কাছেও এসেছিলেন। তারাতলা নিয়ে যে অভিযোগ, সে তো বালিশ তৃণমূলে গেছে।’’