ধর্মশালা: আইপিএলের প্লে অফের প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হয়েছে আরসিবি ও গুজরাত টাইটান্স। দুটো দলই পয়েন্ট টেবলে প্রথম দুটো দল হিসেবে লিগের ম্য়াচ শেষ করেছিল। আরসিবি প্রথম স্থানে থেকে ও গুজরাত দ্বিতীয় স্থানে ছিল। এদিন টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন গুজরাত টাইটান্স অধিনায়ক শুভমন গিল। কিন্তু যে দলে অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে শীর্ষে থাকা সাই সুদর্শন আছেন, যে দলে নিজে অনফর্মে রয়েছে। রয়েছেন বাটলারের মত বিধ্বংসী ব্যাটার। সেই দলের ক্যাপ্টেন হিসেবে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং না নিয়ে কেন ফিল্ডিং নিলেন গুজরাত অধিনায়ক?
এখানে একটু অতীতে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক। শুভমন গিল কতটা কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন জানা নেই। কিন্তু তাঁর টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার পেছনে কারণ হতে পারে কুংস্কার। আইপিএলের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত আটবার আমনে সামনে হয়েছে গুজরাত ও আরসিবি। আর প্রতিবারই রান তাড়া করতে নামা দলই ম্য়াচ জিতেছে। এই ইতিহাসটা নিশ্চিতভাবেই মাথায় রয়েছে দু দলের অধিনায়কের। আর গিল তাই হয়ত ধর্মশালাতেও রান তাড়া করতেই চেয়েছেন। এখন দেখার রান তাড়া করতে নেমে ম্য়াচ জিততে পারে কি না গিল বাহিনী।
ধর্মশালার পিচ মূলত পেসার ও ব্যাটার উভয়ের জন্য়ই খুবই সহায়তা প্রদান করে। পেসাররা এখানে উইকেট থেকে সুবিধে পায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচ্চতায় এই স্টেডিয়াম হওয়ায় হাওয়া প্রচুর। তার জন্য স্যুইংও হয় বল। এই কারণেও হতে পারে গিল প্রথমে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পেসাররা শুরু থেকেই সুবিধে পান পিচ থেকে।
তবে ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টও সুবিধে পায়। ক্রিজে থিতু হয়ে গেলে একজন ব্যাটারও বড় রান করার ক্ষমতা রাখেন। এই মাঠের আউটফিল্ড বেশ দ্রুতগতির এবং বাউন্ডারি কিছুটা ছোট হওয়ায় বড় রান ওঠা খুব স্বাভাবিক বিষয়। এছাড়া ধর্মশালায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা দল সুবিধে পাবে। কারণ পরের দিকে শিশির পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পরে ফিল্ডিং করা দল সমস্যায় পড়ে। স্পিনারদের জন্য অবশ্য এই পিচ থেকে কোনও সুবিধে সেভাবে পাওযার সম্ভাবনা কম।
আইপিএলে আরসিবি এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি মরশুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অন্য়দিকে গুজরাত টাইটান্সও একটি মরশুমে ট্রফি জিতেছে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আরসিবি এবার আইপিএলে নেমেছে। গুজরাত টাইটান্স ২০২২ সালে আইপিএলে নিজেদের অভিষেক মরশুমেই খেতাব জিতেছিল।