কলকাতা: অভিষেকের PA-র খোঁজে তল্লাশি, ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশি তল্লাশি সংক্রান্ত ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন তল্লাশি? কী পেয়েছে পুলিশ? জানতে হাইকোর্টে তৃণমূল। ‘সংরক্ষণ করতে হবে ১২১ কালীঘাট রোডের বাড়িতে তল্লাশির ফুটেজ’, তল্লাশি সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের হলফনামা তলব, ৫ সপ্তাহ পরে শুনানি।
শালবনির জমি জালিয়াতি মামলায় অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আর এই পরিস্থিতিতে সেই সংক্রান্ত মামলায় বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বলেন, অযথা তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ অপরাধের একাধিক প্রমাণ মিলেছে। সুমিত রায়ের আইনজীবী বলেন, কারও জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ হয়নি। পাল্টা বিচারপতির প্রশ্ন করলেন, কোনও অপরাধ দেখতে পেলে কি অভিযোগ জানানো যাবে না?
অযথা ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। অপরাধের একাধিক প্রমাণ রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের সম্পর্কে এমনই মন্তব্য করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। শালবনির একটি জমি জালিয়াতি ও প্রতারণার তদন্তে খড়গপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়, মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে। অভিযোগ ওঠে, শালবনি ও মেদিনীপুর ব্লকের প্রায় ৩০০ একর সরকারি জমি জালিয়াতি করে বিক্রি করা হচ্ছিল। সেই মামলায় নাম জড়ায় অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের। ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। লুক আউট সার্কুলার জারি করেছে CID।যদিও এখনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়কের টিকি খুঁজে পায়নি পুলিশ বা CID।
এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন সুমিত রায়। সেই মামলারই শুনানি বৃহস্পতিবার হয় বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে। বিচারপতি বলেন, সুমিত রায়কে অযথা ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক প্রমাণ রয়েছে। জাল স্ট্যাম্প, ডিড, দলিল পাওয়া গেছে।স্থানীয় এজেন্টরা টাকা তুলে সুমিত রায়ের মাধ্যমে পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ। একথা শুনে সুমিত রায়ের আইনজীবী বলেন, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে চান। ব্য়াঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ সব নথি আদালতে পেশ করতে চান।বিচারপতি বলেন, অভিযুক্তের হলফনামার ভিত্তিতে যদি তদন্ত করতে হয় তাহলে তো হয়ে গেল।তিনি বলেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বাইরে থাকা সম্পত্তি সম্পর্কে জানতে গেলে তো পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই হবে।
এই সুমিত রায়ের খোঁজেই ১২ জুন গভীর রাতে, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কালীঘাট রোডের বাড়িতে পৌঁছে যায় শালবনি থানার পুলিশ। রাত ২ টো থেকে সকাল ৬টা, প্রায় ৪ ঘণ্টা বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। পরের দিন সকাল ৬টা নাগাদ তালা ভেঙে বাড়ির ভিতরে ঢোকে পুলিশ। প্রায় দেড়ঘণ্টা সেখানে তল্লাশি চালিয়েও, খোঁজ মেলেনি অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের।
CM Suvendu Adhikari: ‘আগুন লাগালেন, আর ওই আগুনে জ্বলল বাংলা’, আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর | ABP Ananda Live