নয়াদিল্লি: পৃথিবীর নতুন মানচিত্র প্রকাশিত হয়েছে। আর তাতে শুরুতেই গোল বাধল। কারণ রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রকাশ করা পৃথিবীর ওই নয়া মানচিত্রে ভারতের অরুণাচলপ্রদেশ এবং আকসাই চিনকে দু’টি পৃথক অঞ্চল বলে দেখানো হয়েছে। ভারত এবং চিনের ‘Claim Lines’ বা ‘দাবিকৃত রেখা’র মধ্যবর্তী স্বতন্ত্র অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে অরুণাচল এবং আকসাই চিনকে। অর্থাৎ বিতর্কিত অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে দু’টি জায়গাকে, যা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানাল দিল্লি। (New World Map)
অরুণাচল এবং আকসাই চিনকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে দিল্লি। আকসাই চিনকে লাদাখের অংশ বলে ধরা হয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের ওই মানটিত্রটি সামনে আসতেই তাই আপত্তি তুলেছে ভারত। অসঙ্গতির বিষয়টি রাষ্ট্রপুঞ্জের সংশ্লিষ্ট মহলকে জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল দিল্লির অবস্থান জানিয়েছেন সেই নিয়ে। তবে এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। (Arunachal Pradesh-Aksai Chin)
সংযুক্ত আফ্রিকার দাবি মেনে গত ৪ সেপ্টেম্বর আকারের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে পৃথিবীর নয়া মানচিত্র প্রকাশের দাবি সমর্থন পায় রাষ্ট্রপুঞ্জে। আকারের নিরিখে যাতে প্রত্যেক দেশ এবং মহাদেশের আপেক্ষিক আয়তন নির্ভুল ভাবে তুলে ধরা হয়, সেই নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। ভারতও ওই দাবিকে সমর্থন করে। তবে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ওই প্রস্তাব কোনও নির্দিষ্ট মানচিত্রকে বৈধতা দেয় না। ভূখণ্ড নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে যে বিরোধ রয়েছে, তাকে কী ভাবে তুলে ধরা উচিত, নির্ধারণ করে না তাও।
কিন্তু নতুন মানচিত্রে ভারতের ভূখণ্ডগুলিকে তুলে ধরার ক্ষেত্রেই অসঙ্গতি চোখে পড়ছে এখন। নয়া মানচিত্রের দাবি নিয়ে আলোচনা চলাকালীনই গত ১ জুলাই প্রাথমিক ভাবে ওই মানচিত্রটি সামনে আসে। কিন্তু দেখা যায়, মানচিত্রটিতে অরুণাচল এবং নাগাল্যান্ডের মধ্যবর্তী সীমানাটি গায়েব। বরং একটি পৃথক রাজ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে অরুণাচলকে, যার একদিকে রয়েছে অসম, অন্য দিকে চিন। অরুণাচলের দক্ষিণের সীমানাটিকে ‘Chinese Line’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, বাদ দেওয়া হয়েছে নাগাল্যান্ড সীমানাটিকে। রাজ্যের উত্তরের সীমানাটিতে ‘Indian Line’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ভাবে আলাদা অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে আকসাই চিনকেও। আকসাই চিনের পূর্বের সীমানাটিকে ‘Indian Line’ হিসেবে দেখানো হলেও, পশ্চিমের সীমানটিকে তুলে ধরা হয়েছে ‘Chinese Line’-এর মতো করে। এই ‘Claim Lines’ রাষ্ট্রপুঞ্জের আগের মানচিত্রেও ছিল। তবে ২০১১ সালের যেখানে স্পষ্ট ভাবে ‘Claim Lines’-এর উল্লেখ ছিল, এবারের মানচিত্রটিকে তা নেই।
#WATCH | Delhi: MEA Official Spokesperson Randhir Jaiswal said, “On your question about the UNGA resolution, when this resolution was adopted, we favoured the resolution and voted in favour of the resolution. When the resolution was adopted in the UN General Assembly, we also… pic.twitter.com/6iRqtqcq8j
— ANI (@ANI) September 8, 2026
শুধু তাই নয়, ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরে যে নিয়ন্ত্রণরেখা রয়েছে, সেটিকে বিন্দুযুক্ত রেখা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। মানচিত্রের পাশে যে পাদটীকা রয়েছে, তাতে লেখা হয়েছে, ‘বিন্দুযুক্ত রেখাটি ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে ঠিক হওয়া নিয়ন্ত্রণরেখা’। জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনও সমঝোতা হয়নি বলেও উল্লেখ রয়েছে ওই পাদটীকা। এ নিয়ে আপত্তি জাবিয়েছে দিল্লি। জয়সওয়াল বলেন, “ওই প্রস্তাব কোনও নির্দিষ্ট মানচিত্রকে গ্রহণ বা অনুমোদন করে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত, বিতর্কিত অঞ্চল বা জায়গা নিয়ে রাজনৈতিক মানচিত্র সংক্রান্ত নির্দেশিকাও দেয় না কোনও। আঞ্চলিক অবস্থানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কিছু মেনে নেবে না ভারত। ভারতের সার্বভৌমত্ব, যার মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখও পড়ে, ভারতের সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী, তা সঠিক ভাবে তুলে ধরতে হবে। কোনও রকম ভুল বা বিভ্রান্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এক্ষেত্রে। এব্যাপারে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট এবং আপসহীন।”
BJP News : পুজোর পরেই কলকাতায় পুরভোট, মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর-মডেলে ইস্তেহারের প্রস্তুতি বিজেপির