ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা : ‘বেহাল’ স্বাস্থ্যের হাল ফেরাতে অ্যাকশন মোডে স্বাস্থ্য দফতর। কোচবিহার থেকে ক্যানিং, মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দিতে বৈঠক। জেলা স্বাস্থ্য কর্তা থেকে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠক স্বাস্থ্যসচিবের। বেড নেই বলে রোগী ফেরানো যাবে না। রেফারের নামে রোগী হয়রানি বরদাস্ত নয়। হাসপাতালে দালাল-চক্র বন্ধ করতে হবে। হাসপাতালে অপরিচ্ছন্নতায় জিরো টলারেন্স। নির্দিষ্ট সময়ে কাজে যোগ দিতে হবে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মীদের। ১ জুন থেকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারি। জেলা স্বাস্থ্য কর্তা থেকে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা স্বাস্থ্য সচিবের।
বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালেরই এখন কঠিন অসুখ ! রেফার, পরিচ্ছন্নতার ‘অভাব’, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীর ‘ঘাটতি’, পরিষেবায় ‘খামতি’ থেকে দালাল-সিন্ডিকেটরাজ ! তাই, আরোগ্যনিকেতনের রোগ সারাতে কড়া ওষুধ প্রয়োগ করল রাজ্য সরকার। ক্ষমতায় আসতেই সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোয় নজর দিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রোগী ফেরানো যাবে না। দালালচক্র বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি। বাড়াতে হবে সরকারি হাসপাতালের বেড। রকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া বেসরকারি হাসপাতালকে ১০ শতাংশ বেড দিতে হবে বিনা পয়সায়। শপথ গ্রহণের পর থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করছেন বিজেপির মন্ত্রী-বিধায়করা।
শুক্রবার SSKM হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্য দফতর এবং কলকাতা ও লাগোয়া জেলার ১২টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দেন, চলবে না অ্যাম্বুল্যান্স চক্র। সরকারি হাসপাতালে থাকবে না সিন্ডিকেট রাজ, কাটমানি। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করতে হবে। বন্ধ করতে হবে প্রতিহিংসামূলক পোস্টিং। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি মেডিক্য়াল কলেজ ও হাসপাতাল যারা সরকারি সুযোগ সুবিধা পেয়েছে, তাদের ১৫ শতাংশ বেড দিতে হবে বিনা পয়সায়।
‘মহিলারা অঝোরে কাঁদছেন, আমি বললাম কী হল? বলছেন…’, ফলতার সভায় কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
এই প্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে RG কর হাসপাতালের সমস্ত বিভাগের আধিকারিক ও প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেন হাসপাতালের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও অতিরিক্ত সুপার। সূত্রের খবর, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনও রোগীকে বেড নেই বলে ফেরানো যাবে না। ইমার্জেন্সিতে সব সময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন। প্রত্যেক চিকিৎসককে দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করতেই হবে। দালালচক্র বন্ধ করতে হবে। এই বৈঠকের পর স্বাস্থ্য দফতরের সচিবের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও অতিরিক্ত সুপার। হাসপাতাল সূত্রে খবর, হাসপাতালে দালালরাজ বন্ধ করতে, ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে একজনকে।