আবির দত্ত, কলকাতা: আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে (Andaman and Nicobar Islands) কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার মামলার তদন্তে এবার সক্রিয় হয়ে উঠল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। জালিয়াতির এই আন্তর্জাতিক জালের খোঁজে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার স্ক্যানারে এসেছেন কলকাতার এক ব্যবসায়ী।
সূত্রের খবর, তদন্তের সূত্র ধরে এদিন কলকাতার বাঙুর এলাকার রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের এক আবাসনে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালান ইডি আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, মূলত কয়েক কোটি টাকার একটি বড়সড় আর্থিক জালিয়াতির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম অভিযোগটি দায়ের হয়েছিল বেঙ্গালুরুতে। কিন্তু সেই মামলার সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, এই প্রতারণার জাল সুদূর আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। আন্দামানে চলা এই জালিয়াতির সূত্র ধরেই উঠে আসে কলকাতার এক ব্যবসায়ীর নাম।
সেখান থেকে পাওয়া নির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এদিন কলকাতার রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেয় ইডির একটি বিশেষ টিম। বাঙুরের যে আবাসনে ওই ব্যবসায়ী থাকেন, তিন তলাতেও তল্লাশি অভিযান চালান কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। বেঙ্গালুরু ও আন্দামানের এই কোটি কোটি টাকার প্রতারণার লভ্যাংশ কলকাতার এই ব্যবসায়ীর মাধ্যমে কোথাও বিনিয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এবং পরে দফায় দফায় কলকাতার নানা জায়গায় ইডির আধিকারিকরা তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের মূল অ্যাকাউন্টের ১০ বছরের তথ্য চাইল ইডি। মামলার সূত্রে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
অপরদিকে সোনা পাপ্পু মামলায় দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। সোনা পাপ্পুর চার্জশিটে বিস্ফোরক তথ্য় প্রকাশ করেছে ED। ‘বেআইনি নির্মাণ যাতে হয় সেই জন্য ঘুষ বাবদ টাকা পাঠিয়েছে সোনা পাপ্পু। ২০২২ সালে ১৯ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা খরচ করে সোনা পাপ্পু। যার মধ্যে ৩ কোটি ৪১ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা ঘুষ দেয়। কসবা থানার আধিকারিক, কলকাতা পুরসভার আধিকারিক, তৃণমূল কাউন্সিলরকে টাকা পাঠায় সোনা পাপ্পু। পুলিশকে দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা। পুজোর ডোনেশন ও পার্টি ফান্ডের টাকা দিয়েছে সোনা পাপ্পু। তৃণমূল কাউন্সিলরকে দেওয়া হয়েছে ১কোটি ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের দেওয়া হয়েছে ২ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা। ডোনেশন বাবদ দেওয়া হয়েছে ৫৫ লক্ষ ৯১হাজার টাকা।’