রুমা পাল, কলকাতা: ভোটের ফল প্রকাশ হয়েছে। সরকার বদলে গিয়েছে। চলছে ভোটের ফল বিশ্লেষণের পালা। আর তাতেই উঠে আসছে নানা তথ্য। শহরের আবাসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলির ফলাফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। (West Bengal Election 2026)
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, রেকর্ড ভোটদান, দেড় দশক পরে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদল। তৃণমূলকে সরিয়ে রাজ্যে প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শনিবার রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রেক্ষাপটেই শুরু হয়েছে নির্বাচনী ফলাফলের বিশ্লেষণ। আর তাতেই আবাসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলির ফলাফল নিয়ে উঠে আসছে নানা তথ্য। (BJP vs TMC)
আরও পড়ুন: ‘মা কালী বাঁচিয়ে নিয়েছেন…তৃণমূলের কেউ ফোন ধরেনি, বিজেপি নেতারা ফোন করেছে’, বিস্ফোরক ঋজু দত্ত
বড় আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে ভোটে উৎসাহ বাড়াতে এবারই প্রথম কলকাতা এবং শহরতলির ৬৫টি আবাসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করেছিল নির্বাচন কমিশন। নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন আবাসিকরাও। আর সেই ভোটের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই বাজিমাত করেছে বিজেপি।
কলকাতার অন্যতম অভিজাত আবাসন আরবানায় এবার ভোটকেন্দ্র করেছিল কমিশন। মোট ৯২০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে প্রায় ৭৫০। নির্বাচন কমিশন সূত্রে দাবি, এর মধ্যে বিজেপি ভোট পেয়েছে ৫৫০। আরবানা অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি সদস্য প্রদীপ ভাটিয়া বলেন, “প্রথম বার আবাসনে বুথ হয়েছে। ভোটদান করেছেন ৮২ শতাংশের বেশি। কমপ্লেক্সের ভিতর বুথ হওয়ায় অনেক সুবিধা হয়েছে। আগে আমরা বাইরে যেতাম। কখনও বৃষ্টি হয়, কখনও গরমে লাইনে দাঁড়াতে হয়। অনেকে বাইরে যেতে চায় না। ভোটদানের হার অনেক কম ছিল।”
আরও পড়ুন: ক্ষমতায় এসে কলকাতায় মাছ উৎসব বিজেপি-র, ‘বাঙালির মাছ-ভাত বন্ধ করে দিয়েছিলেন মমতা’, বললেন তাপস রায়
সিলভার স্প্রিং অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি সদস্য সঞ্জয় সিংহ রাঠৌর বলেন, “এবার মানুষ চাইছিল যে ডাবল ইঞ্জিন, যেরকম বলা হয়…সেই অভিজ্ঞতার জন্য় মানুষ এবার ভোট দিয়েছে। একটা মনে সন্দেহ থাকত সবসময় যে যাব কি যাব না? কী সমস্যা হবে। বিভিন্ন সমস্যা থাকত। এখন এখানে কমপ্লেক্সে বুথ হওয়ার পর সুবিধা হয়েছে অনেক। আমি মনে করি, সেই জন্য ভোটদানের হার বেড়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য (সরকার) এক হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়নি।”
কমিশন সূত্রে খবর, বাইপাস লাগোয়া ‘অ্যাক্টিভ একরস’ আবাসনে পড়া ৮৫ শতাংশের বেশি ভোটের মধ্যে ৭০ শতাংশই গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে। যাদবপুরের ‘সাউথ সিটি আবাসনে’ মোট ভোটার ৭০৩ জন। ভোট পড়েছে ৭৭ শতাংশ। তার মধ্যে ৬৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে দাবি, ডায়মন্ড সিটি, জেনেক্স ভ্যালি, সিলভার স্প্রিং,ইমামি সিটির মতো আবাসনগুলিতে ভোট পড়েছে ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ। মোট প্রদত্ত ভোটের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি।
প্রত্যাশা আর প্রতিশ্রুতি, ভোট রাজনীতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এখন আবাসনের ভোটারদের সেই ইচ্ছা পূরণ হয়ে কিনা, তার উত্তর মিলবে ভবিষ্যতে।