কলকাতা: চিৎকার করছেন, ছুঁড়ে ভেঙে ফেলছেন ফুল গাছের টব, অন্যান্য জিনিস ও। বিগ বস বাংলার (Big Boss Bangla) ঘরে ‘লাফটারসেন’ (Laughtersan), নিরঞ্জন মণ্ডল (Niranjan Mondal)। বেশ জনপ্রিয় নেটপ্রভাবী তিনি, ইতিমধ্যে অভিনয় করে ফেলেছেন পর্দাতেও। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে শান্ত এই নেটপ্রভাবীকে বিগ বসের ঘরে দেখে অবাক অনেকেই। এই ঘরে বিভিন্ন টাস্কের সময়ে একাধিকবার মেজাজ হারাতে দেখা গিয়েছে নিরঞ্জনকে। কখনও তিনি পুলের জলে নেমে, ‘ডোন্ট টাচ মি’ বলে চিৎকার করেছেন, কখনও আবার টাস্কের সময়ে তাঁকে আপত্তিকরভাবে ছোঁয়া হয়েছে, এই অভিযোগে তিনি প্রবল চিৎকার, চেঁচামেচি করেছেন। কিন্তু কেন বারে বারে এভাবে মেজাজ হারাচ্ছেন জনপ্রিয় নেটপ্রভাবী নিরঞ্জন মণ্ডল? সদ্য একটি এপিসোডে নিজেই সে কথা বলেছেন তিনি।
বিগ বসের ঘরে বারে বারে মেজাজ হারাচ্ছেন নিরঞ্জন, আসলে কী কারণ?
সদ্য একটি টাস্কের সময়ে নিরঞ্জন অভিযোগ তোলেন, জিতু তাঁর গোপনাঙ্গ স্পর্শ করেছেন। টাস্কের সময়ে প্রত্যেক প্রতিযোগীই নিজের পোশাকের মধ্যে সোনার বিস্কুট লুকিয়ে রেখেছিলেন। জিতু নিরঞ্জনের কোমর থেকে চাদর খুলে নিতে গেলে নিরঞ্জন অভিযোগ তোলেন যে, জিতু তাঁকে আপত্তিকর ভাবে স্পর্শ করেছেন। জিতু এই কথার বিরোধীতা করেন এবং জানান, তিনি নিরঞ্জনকে আপত্তিকর ভাবে স্পর্শ করেননি। সবটাই ছিল টাস্কের অংশ। আর এরপরেই মেজাজ হারান নিরঞ্জন। তিনি জোর গলায় বলতে থাকেন যে, তিনি মিথ্যা বলেছেন। এরপরেই রাগ সামলাতে না পেরে, জিনিস ছুঁড়ে ভাঙতে দেখা যায় নিরঞ্জনকে। অনেক প্রতিযোগীই তাঁকে শান্ত করতে এগিয়ে যান এবং পরে চুপ করে যান নিরঞ্জন।
ছোটবেলায় যৌন হেনস্থার শিকার, কী প্রভাব পড়েছিল নিরঞ্জনের ওপর?
এদিন নিরঞ্জন ঝিলাম এবং অনুষ্কার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে খোলসা করেন, তিনি কেন এই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। নিরঞ্জন জানান, ছোটবেলায় বহুবার, পুরুষদের দ্বারা যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন তিনি। কিন্তু যখনই তিনি এই বিষয়টার প্রতিবাদ করতে গিয়েছেন, যখনই বিষয়টা কাউকে জানাতে গিয়েছেন তখন সবসময়েই দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তিনি মিথ্যা কথা বলছেন। কখনও কেউ স্বীকার করেননি যে, সত্যিই এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটতে পারে নিরঞ্জনের সঙ্গে। এদিন নিরঞ্জন বলেন, জিতু যেহেতু বলেছিলেন যে, নিরঞ্জন মিথ্যা কথা বলছে, তাতেই মেজাজ হারান তিনি। তাঁর মনে পড়ে যায় পূর্ব স্মৃতি যেখানে হেনস্থা হওয়ার পরেও সবসময়েই বলা হয়েছে, নিরঞ্জন মিথ্যা বলছে। এদিন তিনি আরও বলেন, বিষয়টা তাঁকে এমনই নাড়া দিয়েছিল ভিতর থেকে যে তিনি আড়াই দিন কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।