নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “আমাদের মহান সামরিক বাহিনী আমাকে জানিয়েছে যে গত রাতে ইরান হরমুজ প্রণালীর উপর টহলরত আমাদের অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলির একটিকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে।” তবে তিনি জানান, হেলিকপ্টারে থাকা দুই পাইলটই নিরাপদে রয়েছেন এবং তাঁদের কোনও আঘাত লাগেনি। ট্রাম্প আরও বলেন, “তবুও এই হামলার জবাব দেবে আমেরিকা।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার পর অ্যাপাচি হেলিকপ্টারে থাকা দুই সেনাকে একটি চালকবিহীন সামুদ্রিক ড্রোনের সাহায্যে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের একটি নির্দিষ্ট উদ্ধারকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুই সেনাই সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
তবে এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ এখনও তদন্তাধীন এবং ঘটনাটির জন্য কোনও শত্রুপক্ষের হামলাকে প্রকাশ্যে দায়ী করা হয়নি।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। বিশ্বজুড়ে রপ্তানি হওয়া তেলের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় বৃহত্তর শান্তিচুক্তি নিয়ে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলা আলোচনা এখন “চূড়ান্ত পর্যায়ে” পৌঁছেছে।
নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে এনবিএ ফাইনালের তৃতীয় ম্যাচ দেখার পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছিল। এখন আমার মধ্যস্থতায় তারা থামতে সম্মত হয়েছে এবং আমরা এমন একটি চুক্তির শেষ পর্যায়ে রয়েছি, যা অত্যন্ত ভালো হবে।”
কবে এই চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “আগামী দুই বা তিন দিনের মধ্যেই” তা সম্ভব হতে পারে।
যদিও ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। সম্প্রতি তেহরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েল। পরে ইরান সামরিক অভিযান স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, “সেই ফ্রন্টে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
তবে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েল হামলা চালিয়ে গেলে তারা ফের আক্রমণ শুরু করবে। জবাবে নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের যে কোনও নতুন আগ্রাসনের মোকাবিলা “পূর্ণ শক্তি” দিয়ে করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার জন্য ইরানকে দায়ী করে ট্রাম্পের এই অভিযোগ অঞ্চলে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিতে পারে।