চাকরি হোক বা কোনও ব্যবসার মাধ্যমে কোনও ব্যক্তি যখন উপার্জন করা শুরু করেন তখন বিশেষজ্ঞরা বলেন সবার আগে একটা আপৎকালীন তহবিল তৈরি করতে। যেখানে ৯ থেকে ১২ মাসের প্রয়োজনীয় টাকা থাকবে। যাতে হঠাৎ উপার্জন বন্ধ হয়ে গেলে হাতে একটা সময় থাকে ও কোনও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ভাঙতে না হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন সব সময় ৫০-৩০-২০ -এর বাজেটের নিয়ম মেনে চলুন। উপার্জনের ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচে, ৩০ শতাংশ নিজের মনের মতো খরচ করতে ও বাকি ২০ শতাংশ সঞ্চয়খাতে যাবে।

আপৎকালীন তহবিল দ্রুত তৈরি করতে ৫০-১৫-৩৫ মডেলের কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ সাময়িক ভাবে নিজের চাহিদা বা শখের পিছনে ৩০ শতাংশ খরচ না করে, সেটা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করতে। ও উপার্জনের ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কোনও লিক্যুইড ফান্ডে রাখতে হবে। তাহলেই খুব দ্রুত একটা আপৎকালীন তহবিল তৈরি করা যাবে।

অন্তত ৩ মাসের খরচ হাতের কাছে রাখতে হবে। অর্থাৎ কোনও সেভিংস অ্যাকাউন্টে রাখুন। যাতে প্রয়োজনের সময় দ্রুত টাকা পাওয়া যায়।

বাকি টাকা রাখুন কোনও এমন ফিক্সড ডিপোজিটে যা কোনও পেনাল্টি ছাড়াই নিজের ইচ্ছা মতো ভাঙতে পারবেন। এমনকি একাধিক ফিক্সড ডিপোজিট করতে পারেন। এ ছাড়াও কোনও লিক্যুইড মিউচুয়াল ফান্ডে রেখেও দিতে পারেন।

কোনও ধরনের বিনিয়োগ শুরু করার আগে নিজের ও নিজের পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য বিমা ও নিজের জন্য টার্ম লাইফ ইনসিওরেন্স করানো জরুরি।

আপনার আপৎকালীন ফান্ডের মূল উদ্দেশ্য হল আপনার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে খরচের হাত থেকে রক্ষা করা। তাই যে কোনও বিপদের সময় সবার আগে আপৎকালীন ফান্ড খরচ করবেন। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে হাত দেবেন না।

আপৎকালীন তহবিল তৈরি হয়ে গেলেই ইক্যুইটির মাধ্যমে নিয়মিত SIP করা যায়। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরিতে মন দেওয়া যায়।

বেতন পেয়েই সবার আগে বিনিয়োগ করতে হবে। আগে বিনিয়োগ, তারপর খরচ, এটাই অভ্যাস হওয়া প্রয়োজন।

আপৎকালীন তহবিল, বিমা ও সব শেষে SIP, এই তিনটি ব্যবস্থা যদি নিয়মিত করা যায়, তাহলেই অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায়।
Published at : 15 Sep 2026 06:53 PM (IST)