কলকাতা: এক অদ্ভূত সমস্যার সম্মুখীন টাটা গ্রুপ। টাটা গ্রুপের বিভিন্ন সংস্থার কোর ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি বা CIC হল টাটা সন্স। আর এই বিষয়ে রেজিস্ট্রেশনও রয়েছে টাটা সন্সের। আর সেই রেজিস্ট্রেশন প্রত্যাহারের আবেদন করেছিল টাটা গ্রুপ। কিন্তু তা প্রত্যাহার করেনি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তাহলে কি শেষ পর্যন্ত শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হতেই হবে টাটা সন্সকে?
আরও পড়ুন: উপার্জন করতে শুরু করলে সবার আগে কী কাজ করার কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা? বিনিয়োগ কিন্তু আসে সবার শেষে
টাটা সন্সের মূল কাজ হল টাটা গ্রুপের বিভিন্ন সংস্থায় বিনিয়োগ করা ও শেয়ার হোল্ডিং বজায় রাখা। আর রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার নিয়ম বলছে যে কোনও কোর ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি বা CIC -কে তাদের মোট সম্পদের অন্তত ৯০ শতাংশ গ্রুপ সংস্থাগুলোতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ ছাড়াও তার ৬০ শতাংশ থাকতে হবে ইক্যুইটি শেয়ারে। আর এই কাঠামোর সঙ্গে Tata Sons-এর ব্যবসায়িক চরিত্র মিলে যায়।
এই ধরনের কোর ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি বা CIC-গুলোকে বলা হয় NBFC বা নন ব্যাঙ্কিং ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি। স্কেল অনুযায়ী এদের চার ভাগে ভাগ করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক; বেস, মিডল, আপার ও টপ লেয়ার। দেশের বড় NBFC-গুলোকে আপার লেয়ারে রাখা হয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে টাটা সন্স এই আপার লেয়ারে রয়েছে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম বলছে, যে সব NBFC আপার লেয়ারে রয়েছে তাদের নির্দিষ্ট একটা সময়ের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জে নথিভুক্ত হতে হয়। আর টাটা সন্সের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা ছিল ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। যদিও তারা নথিভুক্তির আবেদন না করে কোর ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি বা CIC রেজিস্ট্রেশন প্রত্যাহারের আবেদন করে।
২০২৪ সালে তাদের কাছে থাকা ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ পরিশোধ করে টাটা সন্স। এর পরই তারা যুক্তি দেয়, তাদের আর রেজিস্টার্ড NBFC হিসাবে বিবেচনা করার কোনও প্রয়োজন নেই। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম বলছে শুধু ঋণ থাকা বা না থাকা নয়, গ্রুপ সংস্থার মাধ্যমে পাবলিক ফান্ড ব্যবহারের বিষয়েও বিবেচনা করা হয়।
এ ছাড়াও আরও একটি বিষয় রয়েছে। কোনও সংস্থাকে আপার লেয়ারে যেতে হলে সেই NBFC-র মোট সম্পদ হতে হয় ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। আর সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে টাটা সন্সের এই সম্পদের পরিমাণ ২ লক্ষ কোটি টাকা।
বর্তমানে টাটা সন্সের ৬৬ শতাংশ মালিকানা রয়েছে টাটা গ্রুপের একাধিক জনহিতকর দাতব্য ট্রাস্টের হাতে। এর মধ্যে রয়েছে স্যর দোরাবজি টাটা ট্রাস্ট, স্যর রতন টাটা ট্রাস্ট। এ ছাড়াও ১৮ শতাংশ মালিকানা রয়েছে সাপুরজি পালোনজি মিস্ত্রি পরিবারের হাতে। আর বাকি ১৬ শতাংশ মালিকানা রয়েছে টাটারই কিছু সংস্থা ও কিছু ব্যক্তির হাতে। এবার এখন দেখার শেষ পর্যন্ত কী হয়, টাটা সন্স আদৌ শেয়ার বাজারে নথিভুক্ত হয় নাকি অন্য কোনও পদক্ষেপ করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।